Home » মতামত » সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের সেবা পাবে জনগণ -অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের সেবা পাবে জনগণ -অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন চালু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম সেন্টার ভিত্তিক ৭৫০ শয্যার সুপার স্পেশাইলজড হাসপাতাল। এরই মধ্যে ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণসহ হাসপাতালের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হাসপাতালটি দ্রুুত উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম বু-কিয়ামের উপস্থিতিতে হাসপাতালটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। এটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে। এদেশের সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য যাতে বিদেশে যেতে না হয় সে লক্ষ্যেই নির্মিত হচ্ছে এই হাসপাতাল। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন সেবা নিতে পারবে ৫ থেকে ৮ হাজার রোগী। তাদের জন্য মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে ৩শ’ চিকিৎকসহ মোট ১ হাজার ৫শ’ জন জনবল নিয়োগ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এরই মধ্যে তিন দফায় চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আরও প্রশিক্ষণ পাবেন ১৪০ জন। এর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি উন্নত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের দিগন্ত প্রসারিত হবে। কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টের সুবিধা থাকবে এই হাসপাতালে। এ লক্ষ্যে ৮০ জন চিকিৎসক ৩০ জন নার্স ও ১০ জন কর্মকর্তার বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৬১০ জন স্বাস্থ্যকর্মিকেও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
হাসপাতালটির কার্যক্রম চলবে ৬টি বিশেষায়িত সেন্টারের মাধ্যমে। কার্যক্রম চালু হলে এসব সেন্টারে ২ বছরের জন্য নিয়োজিত থাকবেন ৬ জন কোরিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ও ৫০ জন কোরিয়ান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এদেশীয় জনবলকে প্রশিক্ষিত করতে তারা ভূমিকা রাখবেন। এছাড়াও চিকিৎসা খাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা আমাদের দেশীয় দক্ষ জনশক্তিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে এই হাসপাতালে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষায়িত সব ধরনের সেবা নিয়ে বাংলাদেশে এটিই প্রথম সেন্টার ভিত্তিক হাসপাতাল। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অর্থায়নে হাসপাতালটির ২টি বেসমেন্টসহ ১৩তলা ভবনে থাকবে বিশ্বমানের সব ধরনের সেবা কার্যক্রম। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে থাকবে ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ১০০ শয্যার আইসিইউ, জরুরি বিভাগে থাকবে ১শ’টি শয্যা, ভিভিআইপি কেবিন ৬টি, ভিআইপি কেবিন ২২টি এবং ডিলাক্স শয্যা থাকবে ২৫টি। সেন্টার ভিত্তিক প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হচ্ছে ৮টি করে শয্যা। গুণগতমান বজায় রাখতে ফার্নিচার ও অন্যান্য সরঞ্জাম দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা হয়েছে।
নবনির্মিত হাসপাতাল ভবনের প্রথম পর্যায়ে থাকবে- স্পেশালাইজড অটিজম সেন্টারসহ মেটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, ইমার্জেন্সি মেডিকেল কেয়ার সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেন্টার, কার্ডিও ও সেরিব্রো ভাসকুলার সেন্টার এবং কিডনি সেন্টার। দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকবে- রেসপিরেটরি মেডিসিন সেন্টার, জেনারেল সার্জারি সেন্টার, অপথালমোলজি, ডেন্টিস্ট্রি, ডার্মাটোলজি সেন্টার এবং ফিজিক্যাল মেডিসিন বা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার।
এই হাসপাতালকে বিশ্বমানের মডেল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে রাখা হচ্ছে সর্বাধুনিক সব ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি। এর মধ্যে রয়েছে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন, রোবোটিক অপারেশন, জিন থেরাপির ব্যবস্থা। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের জন্য রাখা হচ্ছে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও মৌলিক গবেষণার জন্য আলাদা সেন্টার। রোগীবান্ধব এই হাসপাতালে থাকবে সানকেন গার্ডেন, রুফটপ গার্ডেন ও বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব সুযোগ-সুবিধা। থাকবে উন্নতমানের আধুনিক ব্যবস্থাপনার বহির্বিভাগ ও ইনফো ডেস্ক ও ডিজিটাল ইনফরমেশন সেন্টার।

এরই মধ্যে ভবনের স্ট্রাকচারাল, আর্কিটেকচারাল ও সিভিল ওয়ার্ক কাজ প্রায় শেষ। এছাড়া মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল, ইনফরমেশন সিস্টেমসহ (এইচআইএস) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহসহ যাবতীয় কাজ দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৩শ’ কোটি টাকা। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দিয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা; যা ৪০ বছর মেয়াদি। তবে এর প্রথম ১৫ বছর কোনো টাকা পরিশোধ করতে হবে না। তারপর থেকে ০.১ শতাংশ সুদে এই ঋণ শোধ দেয়া শুরু করবে সরকার।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সিলেন্সে পরিণত করার উদ্যোগ নেন। সেই লক্ষ্যে ২০১২ সালে হাসপাতাল সংলগ্ন পাশের প্রায় ১২ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জনগণের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়। পরে দক্ষিণ কোরিয়া প্রকল্পটির সরকারের ইডিসিএফের অর্থায়নে ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা ঋণ সহযোগিতার মাধ্যমে প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু হলে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানো রোগীদের সংখ্যা অনেকাংশেই কমে আসবে বলে মনে করছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও আমাদের দেশের চিকিৎসাসেবায় নবদিগন্তের উন্মেস ঘটবে।
-পি. ফি.

0 Shares