Home » জাতীয় » সুমনের প্রাণ গেল বাসের চাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চর ছিলেন!

সুমনের প্রাণ গেল বাসের চাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চর ছিলেন!

 

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সর্বদা সোচ্চার ছিলেন ব্যবসায়ী নূরুজ্জামান সুমন খান (৩৫)। নিজের সামাজিক সাইটে সব সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে নানা স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি এ দাবি তুলেছেন।

স্থানীয়ভাবে নিরাপদ সড়কের দাবিতে একাত্ম ছিলেন সুমন। সেই সঙ্গে সামাজিক নানা আন্দোলনেও সম্পৃক্ত থেকেছেন এ সম্ভাবনাময় তরুণ ব্যবসায়ী।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার সেই নূরুজ্জামান সুমন খানের প্রাণ গেল সড়কে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে।

রোববার সকালে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ভাণ্ডারিয়া-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের শিল্পপতি এমএ খালেকের পাথরবাড়ি নামক স্থানে ঢাকাগামী ‘ঈগল’ পরিবহনের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নূরুজ্জামান সুমন খান নিহত হন।

প্রতিদিনের মতো তিনি প্রাতঃভ্রমণে বের হয়ে সকাল আটটার দিকে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।

নিহত সুমন উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের আবদুল মালেক খান শাহজাহানের বড় ছেলে এবং শহরের নাভিন টাওয়ারের ‘সাধ’ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি গিফট সামগ্রী বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তিনি এক সন্তানের জনক। এ ঘটনায় নিহতর পরিবারে এখন শোকের মাতোম চলছে।

নিহত সুমনের স্ত্রী সাবিহা বেগম জানান, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে তার স্বামী প্রাতঃভ্রমণে বের হন। সকাল ৮টার দিকে সড়ক দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এ সময় ভাণ্ডারিয়া থেকে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের বাস তাকে পেছন দিক থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘাতক ওই বাসটি এক অদক্ষ হেলপার চালাচ্ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সাবিহা বেগম বলেন, আমার স্বামী সব সময় নিরাপদ সড়কের জন্য দাবি তুলতেন। আজ তার সেই সড়কেই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল!

ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি এসএম মাকসুদুর রহমান জানান, হাসপাতাল থেকে নিহত ওই ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর পাঠানো হয়েছে। ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। তাদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

নিউটার্ন.কম/AR

0 Shares