Home » সাহিত্য » সোনালী বাকসো – ১

সোনালী বাকসো – ১

 

 

সোনালী দিনের বাক্সোটার ঢাকনা খুলে বসলাম আজ।সেটায় চকচক করে ওঠে গল্পের স্বাদে।
রুম নং ১১৭ , শামসুন্নাহার হল নতুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
এই ছোট্ট এক লাইনের ইতিহাস যে কতশত পৃষ্ঠা ভরে ফেলা যায় অনায়াসে, ভাবা যায় না! সৌভাগ্যক্রমে আমরা তিনবোন ঐ একি রুমে ছিলাম। ওদের দুইজনকে মাত্র এক বছর পাই আমি। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট।তাই ফাঁকিবাজি আর আল্লাদিপনায় অটুট ছিলাম বরাবর। যথারীতি গায়ে হাওয়া মেখে সাথে দুখানা পাখা লাগিয়ে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতাম। হল লাইফে সবারই কম বেশি কষ্ট করতে হয়। যারা ডায়নিং এ খাওয়া পছন্দ করতোনা তাদের কষ্টটা দ্বিগুন ছিলো। আমার এসবে ভাববার সময় কোথায়! পাখা আছে না!!!
মেঝ বোন রত্না সব সময় রান্না করে খেতো। ব্যাস আর কি চিন্তা! বড় আপার সংসার ছিলো বলে হলে খুব কম থেকেছে। রত্নার বান্ধবীরা মাঝে মাঝে খুব ক্ষেপে যেতো ওর উপর। বলতো, বোনটাকে এত আদর দিয়ে দিয়ে নষ্ট করছিস কেন? কারণ ছিলো তো! কাজ তো করতামই না উল্টো মুখে তুলে ভাত খাইয়ে দিতে হতো কখনো কখনো।
কি করে প্রথম বর্ষটা কেটে গেলো টেরই পেলাম না। অতঃপর কষ্টরা ডালপালা মেলতে শুরু করলো। তবে ফাঁকিবাজির ওস্তাদিটা ছিলো বলে রক্ষা। যেদিন সাড়ে আটটায় থিওরি ক্লাস থাকতো সেদিন বাদে ঘুম থেকে উঠে দেখতাম হল প্রায় খালি। খুব প্রিয় বদ অভ্যাস দেরি করে ওঠা। হলের ফিরোজার দোকানের নাস্তা এই অধম কোনোকালেই পায়নি। অগত্যা বাইরের দোকানের চা বিস্কুট দিয়ে আনন্দের সাথে পেট পুজো হয়ে যেতো রোজ। তারপর চলে যেতাম প্রিয় ডিপার্টমেন্ট চারুকলায়। যার ভালোবাসায় আজো আমি সিক্ত।
ক্লাস তো নয় যেন প্রাণের স্পন্দন। সকাল নয়টা থেকে বিকাল সাড়ে চারটায় যেনো এ এক পরিবার ভ্রমণ। হ্যাঁ পরিবারই । ছাত্র শিক্ষকদের মিলনমেলা। ছাত্র-ছাত্রী কম থাকায় , ছোট থেকে বড় আমরা সবাই সবাইকে চিনতাম। শুধু চিনতাম বললে ভুল হবে।সবাই যেন প্রত্যেকের পা ফেলাকে অনুভব করতাম। ঝোলা কাঁধে কারো নিরবে পা ফেলে চলা। কেউবা সুরে সুরে ক্যনভাস রাঙানোর খেলায় ।কারো ছিলো লাইব্রেরির বইয়ে ডুবে থাকা। আরো ছিলো হৈ হুল্লোড় আড্ডায় জীবনকে চেনা। তারপিন- লিনসিডের ঘ্রাণে মাখা আহ্ কি মধুর দিনগুলো।
(চলব????)

(Shakila Khan Chayan, এর ফেসবুক খেকে)

0 Shares