Home » আন্তর্জাতিক » সোভিয়েতের বিরুদ্ধে যারা মুজাহিদ, আজ তারা সন্ত্রাসী: ইমরান

সোভিয়েতের বিরুদ্ধে যারা মুজাহিদ, আজ তারা সন্ত্রাসী: ইমরান

 

নিউটার্ন ডেস্ক
সোভিয়েতের বিরুদ্ধে যারা মুজাহিদ, আজ তারা সন্ত্রাসী: ইমরান
আফগানিস্তান থেকে তৎকালীন সোভিয়েন ইউনিয়নকে (বর্তমানে রাশিয়া) হটাতে পাকিস্তানে তালেবানদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। যার অর্থায়ন করেছিল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। তখন তাদের মুজাহিদ বলা হতো। কিন্তু সেই তালেবানদেরই আজ বলা হচ্ছে জঙ্গি বা সস্ত্রাসী। এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের সময় পাকিস্তানের নিরপেক্ষ না থাকা ‘ভুল’ হয়েছে। পাকিস্তান যাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে আজ তারাই বিরুদ্ধে চলে গেছে।

বৃহস্পতিবার রুশ গণমাধ্যম রাশিয়া টুডে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

তিনি বলেছেন, ‘‘আশির দশকে আফগানিস্তানে তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে লড়াই চালাতে‌ তালেবানকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল পাকিস্তান। সে জন্য অর্থ জুগিয়েছিল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। ওই সময় আমরা এই সব মুজাহিদকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি সোভিয়েতের বিরুদ্ধে লড়তে। কারণ, রুশ প্রশাসন আফগানিস্তানের দখল নিয়েছিল। তাই মুজাহিদদের তৈরি করতে সিআইএ-র পুঁজি নিয়ে নেমেছিল পাকিস্তান।’’

ইমরান খান মনে করেন, এক দশক পর আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা যখন ঢোকে এবং তালেবানদের ওপর হামলা চালায় তখন পাকিস্তানের নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল। সেটা না করা পাকিস্তানের ‘ভুল’ ছিল।

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সিআইএ-র মদতে যেসব মুজাহিদ সোভিয়েতের বিরুদ্ধে সেদিন লড়েছিল, এক দশক পর তাদেরই সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়েছে আমেরিকা। এটা একেবারেই স্ববিরোধী বিষয়। আমার মনে হচ্ছে, পাকিস্তানের উচিত ছিল নিরপেক্ষ থাকা। কারণ, ওই গোষ্ঠীগুলো এখন আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে।’’

নিরপেক্ষ না থাকার কারণে পাকিস্তানের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে ইমরান খান বলেন, এ জন্য আমাদের ৭০ হাজার মানুষ মারা গেছে এবং পাকিস্তানের ১০ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

পাক প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, শেষমেশ আফগানিস্তানে সাফল্য না পাওয়ার দায়ও আমাদের ওপরেই চাপিয়েছে আমেরিকা।

উল্লেখ্য, গত প্রায় এক বছর ধরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তালেবানদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিল আমেরিকা। নয় দফা আলোচনার পর উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতেও পৌঁছে তারা। কিন্তু কয়েক দিন আগে কাবুলে তালেবানদের হামলায় এক মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনাকে অজুহাত করে আলোচনা থেকে বেরিয়ে যায় ট্রাম্প প্রশাসন। এতে সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছে পাকিস্তান।

0 Shares