Home » জাতীয় » স্ত্রীর হামলায় বৃদ্ধ স্বামী আহত

স্ত্রীর হামলায় বৃদ্ধ স্বামী আহত

 

মুঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, (পটুয়াখালী) :

 

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপার ডাকুয়া ইউনিয়নের পাড় ডাকুয়া গ্রামের মৃতঃ সোরাহব মল্লিকের ছেলে মোস্তফা মল্লিকের নিঃসন্তানের গৃহবধূ হাওয়া বেগমের ষড়যন্ত্রে হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

ঘটনা সূত্রে আহত পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, হাওয়া বেগম নিঃসন্তান থাকায় তার স্বামীর সয়-সম্পত্তির তার আপন ভাইয়ের সন্তানদের অংশিদার করায় পারিবারিক কলহের কারণে সৃষ্টি হয় ষড়যন্ত্র। আহত মস্তফা মল্লিক জানান, আমার স্ত্রী হাওয়া বেগম ও তার সহোদর ভাই হাবিব মৃধার কুপরামর্শে, আমাকে ছেড়ে প্রায়শই আমার বাড়ি ছেড়ে পাশ্ববর্তী গ্রামে বসবাস করে। স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সহায়তায় ফিরিয়ে আনলেও, তার আপন ভাইয়ের কুপরামর্শে আমার সম্পত্তির লোভে আমার উপর নানা ভাবে সমাজিক হয়রানি করতে থাকে। আমার সম্পত্তি এবং নিজের গৃহপালিত গুরু ও ছাগল নিয়ে গলাচিপা থানায় তারা অভিযোগ দিয়ে শালিসির ব্যবস্থা করে। আমার নিঃসন্তান গৃহবধূ হাওয়া বেগম ও তার আপন ভাই হাবিব এবং তার সন্ত্রাসী লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আমাকে ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে নতুন ষড়যন্ত্রের নীল নকশা তৈরী করে।আমার নিজের কষ্টার্জিত একটি মুদি-মনোহরী একটি দোকান ঘর ছিলো তাও নিয়ে গেছে।

এতেও ক্ষ্যন্ত হয়নি, আমার নামে গলাচিপা থানায় মিথ্যে অভিযোগ তৈরী করে আমার বাড়িতে পুলিশ পাঠায়। পরে, গলাচিপা থানার এস আই নিজাম এসে আমার গৃহপালিত ৪ টি গরু ও ৫টি ছাগল নিয়ে স্থানীয় প্রতিবেশী সোহরাব প্যাদার নিকট জিম্মা দেয়। এবং আমাকে স্থানীয় বিচার শালিসির অপেক্ষায় থাকতে বলে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন ২৯ মার্চ সোমবার বেলা আনুমানিক সারে এগারোটার দিকে আমার বাড়িত আমার গৃহবধূ হাওয়া বেগম ও তার ভাই হাবিবসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন লাঠিয়াল বাহীনি এসে গরু জিম্মাদার সোহরাব প্যাদাকে জোর করলে, সোহরাব প্যাদা তাৎক্ষণিক এস আই মোঃ নিজামকে মুঠোফোনে কল করলে, তাকে মুঠোফোনে ঐ প্রান্ত থেকে জিম্মাদারি গরু দিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলে, আমি শালিসিদের উপস্থিতি না দেখে বাধা দিতেই কোন কিছু বুঝার পূর্বেই সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িতে হামলা চালালে আমি ও আমার ছেলে আহত হয়ে বর্তমানে আমি পটুয়াখালীর ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে আছি বলে আইনের মাধ্যযমে সঠিক বিচারের দাবি জানান।

এবিষয়ে জিম্মাদার সোহরাব প্যাদার কাছে সরজমিন গেলে তাকে বাড়িতে না পাওয়া গেলে, মুঠোফোনে জানান, জিম্মাকৃত গরু গুলো নিতে দলবল সহ মোস্তফা মল্লিক এর নিঃসন্তান স্ত্রী ও তার আপন ভাই হাবিব আমার কাছে জোর করলে আমি গলাচিপা থানার এস,আই নিজাম স্যারকে জানাই, তিনি আমাকে মুঠোফোনে শালিসি হয়ে গেছে বলে লিখিত রেখে ৪টি গরু, ৫ টি ছাগল দিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলে, আমি তার নির্দেশ মোতাবেক তাই করি। তখনি’ই মোস্তফা মল্লিক বলেন, পুলিশ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আসার কথা, তারা না আসা পর্যন্ত জিম্মাকৃত গরু ও ছাগল গুলো দিতে অস্বীকৃতি জানালে তখনি’ই দুই পক্ষের মধ্যেই বিরোধ সৃষ্টি হয়।, তার কিছুক্ষণ পরেই এস,আই নিজাম ঘটনা স্থানে এসে গরু ও ছাগল গুলো আহত মোস্তফা মল্লিকের স্ত্রী ও তার ভাই হাবিবকে দিয়ে দেন।

ঘটনার ষড়যন্ত্রকারী আহত মোস্তফা মল্লিকের শ্যালক হাবিবের কাছে জান্তে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমার বোন হাওয়া বেগম নিঃসন্তান হওয়ায় তাকে ঠকিয়েছে তার ভগ্নীপতি মোস্তফা মল্লিক। তার সকল জমা- জমি আপন ভাইয়ের সন্তানদের মাঝে দলিল করে দেয়া হয়েছে, কবর দেয়ার জায়গায় টুকু পর্যন্ত রাখা হয়নি। এ নিয়ে বহু দেন দরবা র হলেও কোন সমাধান হয়নি। ঘটনার দিন আমি এবং ৬নং ডাকুয়া ইউনিয় আঃ লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হানিফ গাজীসহ গরু ও ছাগল আনতে গেলে, তারা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরবর্তীতে গলাচিপা থানা পুলিশ এস,আই নিজাম স্যারের উপস্থিতিতে তার মাধ্যমে গরু ও ছাগল উদ্ধার করি বলে জানান।

এবিষয়ে গলাচিপা থানার এস,আই নিজাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি গবাদি প্রাণী গরু ও ছাগল স্থানীয় একজনের কাছে জিম্মায় দিয়ে এসেছি এবং মুঠোফোনে জিম্মাদার সোহরাবকে গরু ও ছাগল দিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি সত্য কিন্তুু, আমার সহায়তায় গুরু ছাগল উদ্ধার করার বিষটি সঠিক নয় বলে জানান।

0 Shares