Home » জাতীয় » ‘স্বনামধন্য অনেকেরই অর্থপাচারের তথ্য আছে’

‘স্বনামধন্য অনেকেরই অর্থপাচারের তথ্য আছে’

নিউটার্ন প্রতিবেদক : দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধে নজরদারি করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমাজের স্বনামধন্য অনেকেরই অর্থপাচারের তথ্য তার কাছে রয়েছে।বুধবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন, যেখানে তিনি প্রথমে লিখিত বক্তব্য দেন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সম্প্রতি সিআইডি জানিয়েছে, হুণ্ডির মাধ্যমে গত এক বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে। মোবাইলে ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে এই ডিজিটাল হুণ্ডির কারবারে জড়িত ১৬ জনকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য জানা পুলিশের বিশেষ শাখাটি।এমন প্রেক্ষাপটে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো অনানুষ্ঠানিক খাতগুলোকে বৃহত্তর নজরদারিতে আনা হবে কিনা- এমন প্রশ্ন রাখা হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।শেখ হাসিনা বলেন, “এটা নজরদারিতে আনা হয়েছে বলেই তো আপনারা জানতে পারলেন। আপনারা খুঁজে বের করেননি, সাংবাদিকরা বের করেননি। আবার এমন অনেকেরই অর্থ পাচারের তথ্য আছে, যেটা আপনারা লিখবেন কিনা আমার সেন্দেহ আছে। আমি সোজা কথা বলি, বহু তথ্য আমার কাছে আছে। অনেকের ব্যাপারে, অনেক স্বনামধন্যের ব্যাপারেও আছে। তবে হ্যাঁ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং (বাংলাদেশ) ব্যাংক থেকেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। একদিন সব সামনে আসবে, কিন্তু আপনারা তখন লিখবেন কিনা আমি সেটা দেখব।

“দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, যেটা বলা হচ্ছে (সুইস ব্যাংকে টাকা জমা), সে ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। সুইস ব্যাংকে কিন্তু আমরা বহু আগেই ডিমান্ড পাঠিয়েছিলাম, আমরা তালিকা চেয়েছিলাম। কিন্তু কোনো তালিকা আসে নাই, কেউ বলতে পারে নাই। সবাই হাওয়ায় কথা বলে যায় কিন্তু সঠিক তথ্য দিয়ে বলতে পারে না, এটা একটা সমস্যা। আজ যেভাবেই হোক মানি লন্ডারিংয়ের (বন্ধের) ব্যাপারে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ”ডলার সঙ্কট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ডলার সংকট তো বাংলাদেশের একার না। এই সংকট বিশ্বব্যাপী এখন দেখা দিয়েছে। রাশিয়া যুদ্ধের ফলে আমেরিকা যে স্যাংশন দিল, পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে গেল এবং সেখানে সংকটটা আরো বেশি দেখা দিয়েছে। তারপরও আমরা বলব আমরা যখন ছিয়ানব্বই সালে সরকার গঠন করেছিলাম তখন রিজার্ভ কত ছিল? আর এরপর দ্বিতীয়বার যখন আসি তারপর তো আমরা..করোনার সময় কোনো খরচ ছিল না, আমাদের রিজার্ভ বেড়েছে। এরপর যখন আমাদের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ থেকে শুরু করে আমদানি শুরু হয়েছে, তখন তো কিছু কমেছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ কিন্তু সবসময় যেখান থেকে যত ঋণ নেয়, ঠিক সময়মতো ঋণটা পরিশোধ করে। আমরা কিন্তু কোনোদিন ডিফল্টার হইনি। তো সেটা করতে গিয়েও রিজার্ভে একটু টান পড়ে, এটা বাস্তবতা।” তিনি বলেন, “ডলার নিয়ে কিছু শ্রেণি খেলতে শুরু করেছিল, যেটা ভালোভাবে মনিটরিং করা হয়েছে বলেই আমরা একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি আনতে পেরেছি। কিন্তু সংকট যেটা সৃষ্টি হয়েছে, সেটা তো আন্তর্জাতিক বিষয় থেকে এসেছে। এখানে আমাদের নিজস্ব কতটুকু দায়িত্ব আছে? তা তো না। শুধু বাংলাদেশ নয়, সঙ্কট এখন যেটা দেখছেন হয়ত সামনের বছর আরো বেশি সঙ্কট দেখা দেবে। এটা সারা বিশ্বব্যাপী। আমার তো একটা শঙ্কা হচ্ছে যে, সারা বিশ্বেই দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে, সারা বিশ্বে অর্থনীতিতে চরম অবস্থা দেখা দিতে পারে।”

সরকারপ্রধান বলেন, “আমি কিন্তু আগে থেকে সবাইকে বলে রেখেছি, আমাদের মাটি আছে, মানুষ আছে, ফসল ফলাও, নিজের খাবার নিজে ব্যবস্থা করো। নিজেদেরটা আগে আমরা করে রাখি, যেন আমাদের কারো মুখাপেক্ষী না হতে হয়। আমরা তো তাও বাংলাদেশে চালাচ্ছি, ইউরোপ, আমেরিকা বাং ইংল্যান্ডের যে অবস্থা, সেটা একবার চিন্তা করে দেখেন সেখানে কি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। “সে তুলনায় আমরা তো যথেষ্ট প্রণোদনা দিয়েছি, আমরা গ্রামে গ্রামে অর্থ সরবরাহ করেছি, আমরা সাধারণ মানুষকে নগদ অর্থ দিয়েছি, আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ সৃষ্ট করেছি, শ্রমিকদের বেতন সরাসরি দিয়েছি, কৃষকদের সব ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছি, সার থেকে শুরু করে কৃষি উপকরণ, পৃথিবীর যেখান থেকে পাচ্ছি, আমরা নিয়ে এসে আমরা সরবরাহ করে যাচ্ছি। আমরা কোনোদিকে এতটুকু শিথিলতা দেখাচ্ছি না। দেশের মানুষের কল্যাণে যা যা করনীয় আমরা কিন্তু করে যাচ্ছি। ভ্যাকসিন যেভাবে আমরা দিয়েছি, আমার তো মনে হয় পৃথিবীর কম দেশই পেরেছে যে, একইদিনে এক কোটি ২০ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন পৃথিবীর কোনো দেশ দিতে পেরেছে? ”বর্তমান সংকট মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি সবসময় বলেছি করোনা থেকে যেমন বাঁচতে হবে, আবার যার যেখানে যা আছে, একটা গাছ লাগান, একটু ফল হোক, একটু তরকারি হোক, সবজি হোক, যা হোক নিজে কিছু করে খান। আমি খুশি যে আমি আহ্বান করার পর কিন্তু দেশের মানুষ বসে নাই। এভাবে আমাদের নিজেদের সাশ্রয় এবং সঞ্চয় আগে থেকেই রাখতে হবে, নইলে বিশ্বব্যাপী একটা কিন্তু ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যদি এই যুদ্ধ বন্ধ না হয়। এই স্যাংশন যদি প্রত্যাহার না হয় তাহলে কিন্তু আরো খারাপ অবস্থা হবে।”
নিউটার্ন/এআর

 

0 Shares