Home » জাতীয় » হাইকোর্টের ভুয়া জামিননামা দেখিয়ে প্রতারণা, লাল মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

হাইকোর্টের ভুয়া জামিননামা দেখিয়ে প্রতারণা, লাল মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

মাহমুদুর রহমান(তুরান),ভাঙ্গা(ফরিদপুর) : উচ্চ আদালতের জামিন দেখিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেরান দীর্ঘ দিন। একবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও উচ্চ আদালতের জামিননামা দেখালে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। অবশেষে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তৈরী করা কাগজপত্র ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দক্ষিণ কালামৃধা গ্রামের চাঞ্চল্যকর লাল মিয়া হাওলাদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সুজন হাওলাদারকে গ্রেফতার করে ভাঙ্গা থানা পুলিশ।শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার এস,আই আবুল কালাম আজাদ সঙ্গীয় এ,এস.আই রেজওয়ান মামুন,এ,এস,আই রাকেশসহ পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে উপজেলার কালামৃধা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। রবিবার দুপুরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস,আই আবুল কালাম আজাদ জানান, সম্প্রতি লাল মিয়া হাওলাদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি উচ্চ আদালতের জামিন দেখিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে জামিনের কাগজপত্র এবং রি-কল দেখানোর পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে কোর্টে পাঠানো মূল জামিন নামায় প্রধান আসামির নাম না থাকায় জামিনের বিষয়টি ভুয়া প্রমাণিত হলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এস.আই আবুল কালাম আজাদ আরও জানান, উচ্চ আদালত থেকে প্রাপ্ত জামিন নামায় দেখা যায় নিম্ন আদালতে পাঠানো কাগজপত্রের সাথে কোন মিল নেই। অথচ উচ্চ আদালত থেকে অন্যান্য জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের তালিকার শেষে প্রধান আসামির নাম অন্তর্ভূক্ত করে কোর্টে জমা দেয়।এতে হুবহু আ্ইনজীবীর স্বাক্ষর করা কাগজপত্র নিম্ন আদালতে পাঠালে জামিনের রি-কল থানা পুলিশকে দেখিয়ে বিভ্রান্ত করে। আসল ঘটনাটি প্রকাশ হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিয়ে আসামির জামিন করা উচ্চ আদালতের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আবু জাফরের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তার সীল,স্বাক্ষর সম্বলিত কাগজ পত্রের ব্যাপারে তার সাথে কথা বললে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্লেখ্য যে,সম্প্রতি উপজেলা দক্ষিণ কালামৃধা গ্রামের কৃষক লাল মিয়া হাওলাদারকে উপর্যুপরি পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের পুত্র মেহেদী হাওলাদার বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বেশির ভাগ আসামিই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে।r

0 Shares