Home » জাতীয় » ১৬ জেলার ৩ লাখ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি

১৬ জেলার ৩ লাখ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি

 

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ একেবারে দুর্বল হয়ে গেছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে মহাবিপৎসংকেত তুলে নিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বুলবুলের রেশ আছে। এই রেশ আরও দুই দিন থাকবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী দুই দিন বৃষ্টি হবে।

কিন্তু স্বল্প সময়েই বুলবুলের আঘাতে দেশের ১৬ জেলার ২ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমির ১৮ ধরনের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ১৮ ধরনের ফসলের মধ্যে রোপা আমন বেশি আক্রান্ত হয়েছে। বাতাসের তীব্রতায় ধানসহ অন্যান্য ফসল নুয়ে পড়েছে। তবে, ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিশ্চিত হতে আরও ৩/৪ দিন সময় লাগবে। কৃষকদের এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

রোববার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক চান্দি দাস কুণ্ড গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে দেশের ১৬ জেলার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এই ১৬ জেলায় ২ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। জমিতে কৃষকদের ১৮ ধরনের ফসল ছিলো। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য রোপা আমন, সরিষা ও খেসারি ডাল। এছাড়া রয়েছে শীতকালীন সবজি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রোপা আমন ও সরিষা। আমরা কৃষকদের পাশে আছি। আমাদের উপজেলা ও জেলার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, রোপা আমন বাতাসের তীব্রতায় নুয়ে পড়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি, রোপা আমন যদি কাঁচা থাকে তাহলে তুলে ঝুঁটিবেঁধে দাঁড় করিয়ে দিতে হবে। পেকে গেলে দ্রুত পানির ওপর থেকে কেটে তুলতে হবে। আমাদের মাঠ কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা ইতোমধ্যে ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। বরগুনা, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রামে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

বুলবুল শুরুর দিকে বাতাসের গতি ছিলো ঘণ্টায় প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। কখনো কখনো ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার।

বুলবুল এখন আর প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থানে নেই। এমনকি এটি এখন আর ঘূর্ণিঝড়ও নয়। এটি একটি স্থল নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বাংলাদেশে আসার আগে গতকাল শনিবার মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। একই মহাবিপৎসংকেতের আওতায় ছিলো উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো। তবে এসব মহাবিপদসংকেত তুলে নিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, আগে ছিলো মহাবিপৎসংকেত ১০। এটি ছিলো পায়রা ও মোংলায়। এখন ওই দুই জায়গায় মহাবিপৎসংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে হবে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ছিলো মহা বিপদ সংকেত ৯। সেখানে মহাবিপৎসংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে হবে। কক্সবাজারের ছিলো ৪। সেখানে হবে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত। নদীবন্দরে ছোট ছোট লঞ্চের জন্য ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত বিদ্যমান আছে।

নিউটার্ন.কম/AR

7 Shares