Home » খেলাধুলা » বিপিএলে কেমন করছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা?

বিপিএলে কেমন করছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা?

নিউটার্ন ক্রীড়া ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) রাউন্ড রবিন লিগের প্রায় অর্ধেক খেলা শেষ। ৩০টি ম্যাচের ১৪টির ফল বেরিয়েছে। বাকি আছে ১৬ ম্যাচ।

অংশগ্রহণকারী ছয় দলের চারটি দল অন্তত ৪টি করে ম্যাচ খেলেছে। স্বাগতিক সিলেট টাইটান্স খেলেছে ছয়টি। এছাড়া টেবিলের শীর্ষ দুই দল রংপুর রাইডার্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস খেলেছে পাঁচটি করে ম্যাচ।

জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা কেমন করছেন বিপিএলে? সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ কোথায় খেলতে যাবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দোদুল্যমান অবস্থায় থাকলেও বাংলাদেশ ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।

তারা কেমন করছেন? উত্তর হচ্ছে, আশাব্যঞ্জক নয়। বিশ্বকাপ দলে যারা সুযোগ পেয়েছেন তাদের পারফরম্যান্স এখন পর্যন্ত গড়পড়তা। বলার মতো পারফরম্যান্স দুয়েকটি। বোলারদের পারফরম্যান্স তাও আলোচনায় আসার মতো। ব্যাটসম্যানরা হতাশ করেছেন সবচেয়ে বেশি। বেশিরভাগই রয়েছেন একেবারেই আড়ালে।

শুরুর ব্যাটিং অর্ডার দিয়েই শুরু করা যাক। ওপেনার তানজিদ হাসান লাগাতার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তার ব্যাটে রান নেই। বিপিএলে রাজশাহীর এই ওপেনার ৪ ম্যাচে মাত্র ৬১ রান করেছেন। সর্বোচ্চ রান ২৯। ব্যাটিং গড় ১৫.২৫। রান নেই লিটন দাসের ব্যাটেও। রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলা লিটন ৫ ম্যাচে ১১৪ রান করেছেন ২২.৮০ গড়ে। টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান নিজের ছায়া হয়ে আছেন। ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলা সাইফ ৪ ম্যাচে মাত্র ২৬ রান করেছেন। শুরুর ব্যাটসম্যানদের এই ফর্ম নিশ্চিতভাবেই কোচ ও নির্বাচকদের মাথা ব্যথার কারণ হবে।

পারভেজ হোসেন ইমন ৬ ম্যাচে ২০২ রান করেছেন। ব্যাটিং গড় ৪০.৪০, স্ট্রাইক রেট ১৩২.৮৯। ব্যাটসম্যানদের মধ্যেই পারভেজই আছেন রানে। যদিও বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলছেন চার নম্বর পজিশনে। শামীম হোসেন ৪ ম্যাচে ১১৩ রান করেছেন। এক ম্যাচেই তার ব্যাট থেকে আসে ৮১ রান। এছাড়া ফিনিশিংয়ে একাধিক ম্যাচে ভালো করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারেননি সেসব।

প্রায় একই অবস্থা তাওহীদ হৃদয়ের। রংপুরের হয়ে খেলা তাওহীদ ৫ ম্যাচে মাত্র ৭৭ রান করেছেন। যেখানে এক ম্যাচেই করেছেন ৫৩ রান। রংপুরের অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক কাজী নুরুল হাসান সোহান নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। ৩ ইনিংসে ২টিতে নট আউট ছিলেন। রান করেছেন মাত্র ১৬। এছাড়া লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাহেদী হাসান ৫ ম্যাচে ৩ ইনিংসে করেছেন ৪০ রান।

সব মিলিয়ে ব্যাটসম্যানদের অবস্থান অনেকটাই নাজুক। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার। এরপর লোয়ার অর্ডারে যারাই আছেন তাদের মধ্যে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারছেন পারভেজ হোসেন।

বোলিংয়ে মোস্তাফিজুর রহমান রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। নিয়মিত উইকেট তো পাচ্ছেনই। সঙ্গে কিপটে বোলিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছেন। বোলিং ইকোনমি ৬.৯৪। ৫ ম্যাচে ১৩২ রান দিয়ে ৯ উইকেট পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার। পেসার শরিফুল ইসলামও বল হাতে দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তারও ৫ ম্যাচে ৯ উইকেট। বোলিং ইকোনমি ৬.৭০। নাসুম শেষ ম্যাচে পেয়েছেন ৫ উইকেট। এর আগে তেমন ভালো ছিল না বোলিং। বাঁহাতি স্পিনার ৬ ম্যাচে পেয়েছেন ৮ উইকেট।

এছাড়া তানজিম হাসান, সাইফ উদ্দিন ও তাসকিন আহমেদ প্রায় একই রকম ফর্মে আছেন। তানজিম ৪ ম্যাচে ৫, তাসকিন ৩ ম্যাচে ২ ও সাইফ উদ্দিন ৪ ম্যাচে ৩ উইকেট পেয়েছেন। আরেক স্পিনার মাহেদীর ৫ ম্যাচে রয়েছে ৬ উইকেট।

বিপিএলের পরপরই বিশ্বকাপ খেলতে যাবে বাংলাদেশ। বড় মঞ্চে পা রাখার আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাস জ্বালানি পাওয়ার বিপিএলই শেষ সুযোগ। সুযোগ পাওয়া ক্রিকেটাররা সামনে আরো ম্যাচ খেলতে পারবেন। এই সুযোগগুলো তারা কাজে লাগাতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।
নিউটার্ন/এআর

0 Shares