ছেলেবেলা -২

আগের পর্বে লিখেছিলাম বিজয়নগর সরকারি প্রাইমারি স্কুলে আমার পড়া হলো না। অথচ বড় ভাইবোনেরা সেখানেই পড়েছে। সেসময় আশপাশে ওটিই একমাত্র কাছের স্কুল। অন্য স্কুলগুলো আমাদের গ্রাম থেকে বেশ দূরে। যাহোক আমি বাড়িতে ভাইবোনদের কাছেই পড়াশুনা করতে লাগলাম। ইতোমধ্যে গ্রামেই একটি বেসরকারি প্রাইমারি হলো। গ্রামের মুরব্বিরা তা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সম্ভবত ১৯৭৬ সালে। আমাকে ভর্তি করা হলো ইনফ্যান্ট শ্রেণিতে। তখন আমরা বলতাম ছোট ওয়ান। কেউ কেউ উচ্চারণ করতো এ্যানফ্যান। আগে না বুঝেই আমরা এরকম উচ্চারণ করতাম। বড় হয়ে বুঝেছি তখনকারটা ভুল ছিল। এখন মনে পড়লে হাসি পায়। যাহোক কয়েক মাস হয়ে গেল। ওই ক্লাসের পড়া আমার কাছে পানির মতো মনে হতো। সবই পারি। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ আমাদের সকলের পরিচিত। কারণ তারা আমাদের গ্রামের অধিবাসি।

 

 

সম্পর্কে কেউ ভাই কিংবা চাচা। কয়েক মাস যেতেই কোন পরীক্ষা ছাড়াই আমার প্রমোশন হলো। আমাকে বড় ওয়ানে অর্থাৎ ক্লাস ওয়ানে ওঠিয়ে দেয়া হলো। ভালো পারার পুরস্কার। আমাদের বেসরকারি বা রেজিস্টার স্কুলটি ভৈরব নদীর ধারে। যদিও এখন এটি সরকারি। বড় মাঠ। খেলাধুলা ভালো মতোই করা যায়। প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মাদ স্যার। সফি স্যার,সাত্তার স্যার, দুলু স্যার শুরুতে পড়াতেন। পরে যোগ দিলেন খালেক স্যার। দুলু স্যার চলে গেলেন নতুন খয়েরতলা স্কুলে। তিনি পরে এ পেশা ছেড়ে দেন। পশু হাসপাতালে চাকরি নেন। এলাকায় তিনি পশু চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। ইনি চাকরি ছাড়লে খালেক স্যার আসেন। দূরের গ্রামের মানুষ তিনি। বেশ কয়েক বছর কাজ করে তিনিও চাকরি ছাড়লেন। বেতনকড়ি কম বলে। গ্রামের স্কুলে পড়াশুনার মজাই আলাদা। নেই কোন খরচ। নেই জ্যাম। এক দৌঁড়ে স্কুলে পৌঁছানো। রোদ, বৃষ্টির ঝামেলা পোহাতে হয় না। যাকহোক লেখাপড়া ভালোই করছি। ক্লাসে পজিশন থাকে। ২ কিংবা ৩ এ। ১রোল হতো সিরাজের। ও অত্যন্ত মেধাবি ছিল। হাইস্কুলেও ভালো করতো। কিন্তু…..(অসমাপ্ত)

লেখক-বি এম ইউসুফ আলী
প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান
কমলাপুর স্কুল এন্ড কলেজ, সবুজবাগ,ঢাকা

56 Shares