Home » আন্তর্জাতিক » মাদুরো আটক, ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় কে আসছেন

মাদুরো আটক, ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় কে আসছেন

নিউটার্ন আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে এবং তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি লিখেছে, “এখন বড় একটি প্রশ্ন হলো- ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় কে আসছেন? ট্রাম্পের দাবি সত্যি হলে সবার নজর থাকবে ভেনেজুয়েলার পরবর্তী শাসনের দিকে।”

বিবিসি স্প্যানিশ-এর এডিটর গার্সিয়া মার্কোর মতে, “আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় আর কোনো হামলা চালাবে না এবং ট্রাম্প মাদুরোকে আটক করতে পেরেই সন্তুষ্ট থাকবেন। কিন্তু এতে একটি প্রশ্ন থেকে যায়: মাদুরোকে ছাড়া তার প্রশাসন কী ক্ষমতায় টিকে থাকবে?”

বিবিসির এই সম্পাদকের বিশ্লেষণ বলছে, বিষয়টি নির্ভর করবে প্রধানত তিনজনের ওপর- ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো। মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই তারা তিনজনই টেলিভিশনে বক্তব্য দেন এবং নেতৃত্ব গ্রহণ করার সম্ভাবনা রাখেন।

পাদ্রিনো এবং কাবেলো- উভয়েরই সামরিক বাহিনীর ওপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এবং সেনাবাহিনী তাদের যেকোনো একজনের প্রতি অনুগত থাকতে পারে। ক্ষমতার রাশ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা হবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব নেওয়ার কথা রদ্রিগেজের। তবে তিনি মূলত কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক মুখ হিসেবে কাজ করেন, কাবেলো বা পাদ্রিনোর মতো সেনাবাহিনীর ওপর তার সরাসরি কোনো কমান্ড নেই।

বিরোধী দলগুলোর অবস্থান

গার্সিয়া মার্কোর মতে, আরেকটি বড় অজানা বিষয় হলো মারিয়া করিনা মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল কী করবে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের নির্বাচনে নিজেদের জয়ী দাবি করার পর, বিরোধী দল এখন প্রকৃত রাজনৈতিক পরিবর্তন চাইছে। কেবল প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে মাদুরোর অপসারণেই তারা সন্তুষ্ট না-ও হতে পারে। তাদের লক্ষ্য সম্পূর্ণ শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন।

এছাড়া বর্তমানে স্পেনে নির্বাসিত থাকা এদমুন্দো গনসালেসকেই বিরোধী দলগুলো বৈধ প্রেসিডেন্ট মনে করে। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। চীন এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। ভেনেজুয়েলায় এই দুই দেশের বিশাল বিনিয়োগ এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। রাশিয়া ও চীন ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রশাসনকে সমর্থন দিলে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি

ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী যদি বিভক্ত হয়ে যায় (এক অংশ মাচাদোকে এবং অন্য অংশ কাবেলোকে সমর্থন করে), তাহলে দেশটিতে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে। শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ এক ভিডিও ভাষণে এই সংকটময় মুহূর্তে দেশকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

লোপেজ বলেন, “মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলা জয়ী হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটি কোনো আপস করবে না। ভেনেজুয়েলা হাল ছাড়বে না।”

তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলার মুক্তি এবং স্বাধীনতা কোনো দরকষাকষির বিষয় হতে পারে না।”

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, “এই সংকটময় মুহূর্তে জয়ী হওয়ার জন্য দেশের সবাইকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের আতঙ্কিত হওয়া চলবে না, কারণ আমাদের শত্রুরা ঠিক সেটিই অর্জন করতে চায়। শত্রু আমাদের মাতৃভূমি এবং জাতির মধ্যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে করা অঙ্গীকারের প্রতি অবিচল এবং অটল থাকব: যেকোনো ধরনের যুদ্ধংদেহী মনোভাব বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করব। আর এ কারণেই মার্কিন হামলার পর ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক বাহিনীর সব বিভাগকে মোতায়েন করা হয়েছে।”

সব মিলিয়ে, মাদুরোর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হলেও ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার লড়াই যে এখনো শেষ হয়নি- তা স্পষ্ট।
নিউটার্ন/এআর

0 Shares