সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সুনামগঞ্জের ৫ টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রসহ ৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দিয়েছেন হলফনামাও। হলফনামায় প্রার্থীদের বার্ষিক আয়, মোট সম্পদ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ বিভিন্ন তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে। প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এবার প্রতিটি আসনে এমন একাধিক প্রার্থী রয়েছেন যাদের সম্পত্তি কোটি টাকারও বেশি। বলা যায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জে এবার কোটিপতি প্রার্থীর ছড়াছড়ি। হলফনামা অনুযায়ী সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী আনিসুল হকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট আয় ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৭ হাজার ৩২৯ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা খাত থেকে বছরে তার নিয়মিত আয় হয় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৯ টাকা। তার হাতে নগদ
অর্থ ১ লাখ টাকা এবং ব্যাংককে জমা রয়েছে ৪৭ হাজার ১৬২ টাকা। ভূমি সম্পত্তি দেখানো হয়েছে ২৪.৬৭ একর। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ১.৪০ একর ভূমি যার মূল্য ৩৬,৫০২,১৪৯.৩৬ টাকা ও নিজের নামে কৃষি জমি ৫.২৭ একর এবং অকৃষি ১৯.৪০ একর অকৃষি প্রদর্শন করেছেন তিনি। সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল হলফনামায় তার বার্ষিক আয় কৃষিতে ৪ লাখ, দোকান ভাড়া ৬০ হাজার, ব্যবসা ৫০ হাজার, গরুর খামার হতে ৫০ হাজার টাকা। কামরুল নিজের নামে অকৃষি জমি ০.১৫ একর যার মূল্য ৭ লাখ টাকা, উত্তরাধিকারী সূত্রে সম্পত্তি ২০.০০ একর যার মূল ৬০ লাখ টাকা ও ৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি দালান ঘর এবং ৩ লাখ টাকা মূল্যের গরুর খামার রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন হলফনামায়। নগদ কোনো টাকা উল্লেখ না করলেও নিজের নামে ব্যাংকে ৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা প্রদর্শন করেছেন তিনি। ইসলামী আন্দোলন সমর্থিত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী হলফনামায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তার মোট আয় ৮ লাখ ১৫ লাখ ৪০২ টাকা। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ৫২ লাখ ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা। নিজের আয়ের কয়েকগুণ বেশি দেখানো হয়েছে স্ত্রী’র আয়। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪ টাকা। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪৭ টাকার। সন্তানের সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৯৬ টাকা। হলফনামায় রফিকুল ইসলামের নিজের হাতে নগদ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬২১ টাকা দেখানো হলেও, স্ত্রীর হাতে নগদ ৮১ লাখ ১৪ হাজার ৬৬২ টাকা রয়েছে। সুনামগঞ্জ-২ আসনে আর্থিক দিক দিয়ে সক্ষম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ১২ হাজার ৬১১ টাকা। বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৫২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আইন পেশা থেকে বছরে আয় করেন ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা। স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ শিশির মনিরের চেয়ে বেশি, ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪৮ হাজার ২৬৩ টাকা। শিশির মনিরের নিজের নামে কোনো জমি নেই। সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী। তার বার্ষিক আয় কৃষিখাত থেকে মাত্র ৪ লাখ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ, ব্যাংকে জমা মাত্র ১৪ হাজার ৫০০ টাকা। নিজের ও যৌথ মালিকানায় মিলে ১৩ একর কৃষি জমি। বিএনপি মনোনীত অপর প্রার্থী তাহির রায়হান চৌধুরীর বার্ষিক আয় কৃষি খাত থেকে ৩ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা। শেয়ার বন্ড থেকে আয় ৪৫,২৪৪ টাকা। তার আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭১ টাকা প্রদর্শন করা হয়েছে। তার হাতে নগদ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৯ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ৩৪ লাখ ৮ হাজার ৮৯২ টাকা। তার নামে কৃষি জমি ১১ একর এবং অকৃষি জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার। সুনামগঞ্জ-৩ আসনেও কোটিপতি প্রার্থীর ছড়াছড়ি। বিএনপির প্রার্থী কয়ছর আহমদের আয়করের রিটার্ন অনুয়ায়ী সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বার্ষিক আয় ৬০ লাখ ৭ হাজার টাকা। নগদ অর্থ ৩৩ লাখ। ব্যাংকে জমা ৮৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৭ টাকা। এই আসনে আর্থিক অবস্থায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। তার আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী স¤ম্পদ দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার ৫১৭ টাকার। বছরের আয় ২৬ লাখ টাকা। তার হাতে নগদ ২ কোটি ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ১৬ লাখ ৪২ হাজার ৪১৪ টাকা। ঢাকায় ১৭ ডিসিমিলের একটি বাসা ও গুলশানে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে আনোয়ার হোসেনের। তার নামে বিদেশে একটি বাড়ি রয়েছে। যার মূল্য ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৬১ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামায় এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮ টাকা। বছরে আয় ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮৬ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৬ টাকা। নগদ অর্থ ৫০ লাখ ৩৯ হাজার ৫২৩ টাকা ও ব্যাংকে মাত্র ১৯ হাজার ৪৭১টাকা জমা রয়েছে। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীনুর পাশা চৌধুরীর আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সম্পদ দেখানো হয়েছে ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার ৭০৮ টাকার। বছরে তাঁর আয় ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৪ টাকা কৃষিখাত ও বাসা ভাড়া থেকে আয় ১ লাখ ১৬ হাজার। ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার। নগদ রয়েছে ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৮ টাকা ও ব্যাংকে মাত্র ২ হাজার ৫৩০ টাকা রয়েছে। জামায়াতের প্রার্থীর ইয়াসীন খানের আয়কর রিটার্নে স¤পদের পরিমাণ ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪ টাকা দেখানো হয়েছে। আইনপেশা থেকে তার বছরে আয় ৬ লাখ ২৭ হাজার ২০০ টাকা ও অন্যান্য উৎস থেকে ৯ হাজার ১৩৩ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ ১৪ হাজার ৯২৩ টাকা, ব্যাংকে ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৮৪ টাকা জমা রয়েছে। নিজের নামে স্বর্ণ রয়েছে ১৫ ভরি। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলামের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী স¤পদ ১ কোটি ৯ লাখ ২৪ হাজার ৪৭ টাকার দেখানো হয়েছে। বছরে আয় ৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। বাসা ভাড়া থেকে তার আয় ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। পেশা থেকে আয় ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯২ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ ৭১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯২ টাকা ও তিনটি ব্যাংকে ৯ লক্ষাধিক টাকা রয়েছে তার একাউন্টে। স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনের স¤পদের পরিমাণ ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৪১ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষি খাত থেকে আয় ২ লাখ ৮০ হাজার ও অন্যান্য উৎস্য থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার। নগদ অর্থ ৪৮ লাখ টাকা ও ব্যাংকে ১৬ লাখ ৮১ হাজার ১৬৯ টাকা রয়েছে। সুনামগঞ্জ ৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের আয়কর রিটার্নে স¤পদ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ ১৩ হাজার টাকার। বছরে আয় ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। কৃষি খাত থেকে আয় ৫০ হাজার ও ব্যবসা থেকে ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৩১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪৬ টাকা। তবে ব্যাংকে কোনো টাকা জমা নেই। ২৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাড়ি ও ৪ একর অকৃষি জমি রয়েছে। সুনামগঞ্জ ৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীর আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী ১৫ কোটি ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭১ টাকার স¤পদ দেখানো হয়েছে। বছরে তার আয় ৩২ লাখ ১০ হাজার ৩৫৪ টাকা। কেবল ব্যবসা থেকে আয় ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মিজানুর রহমানের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১৮ লাখ ৬ হাজার ৪০১ টাকা, ব্যাংকে জমা রয়েছে ৮৩ লাখ ১৫ হাজার ২৩২ টাকা। তার রয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকার কৃষি ও অকৃষি জমি।
Newturn24.com Latest News Portal