টোকিও (জাপান), ৬ ফেব্রুয়ারি:
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে আজ টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মত কোনো দেশের সাথে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করল।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও সেদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে নিজ নিজ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে ঢাকা ও টোকিওতে অনুষ্ঠিত সাত দফা নেগোসিয়েশনের ফলই এ চুক্তি।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তাঁর বক্তব্যে এ চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এ ইপিএ চুক্তিটি কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়; এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে।
চুক্তিটির অধীনে বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা উভয় বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। তৈরি পোশাকসহ প্রায়
সাত হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের জন্য তার বাজার সম্প্রসারিত করছে, ফলে এক হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।
উল্লেখ্য, পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল নিয়ে কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক খুব সহজে জাপানে রপ্তানি করা যাবে। এর পাশাপাশি, জাপানের আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং এবং নার্সিংয়ের মতো প্রায় ১৬টি বিভাগে ১২০টি সেবা (Trade in service) খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের মানুষের জন্য জাপানে অধিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।
বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি, এটি উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি এবং লজিস্টিকস প্রভৃতি খাতে জাপানি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানি উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ হলে আমাদের দেশীয় পণ্যের মান বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। এছাড়াও, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) বিকাশ এবং একটি দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এই চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।-ত.বি.
Newturn24.com Latest News Portal