তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ
শিক্ষক কিংবা অন্য কোনো পেশায় কর্মরত কেউই সাংবাদিকতা করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আয়োজিত ও উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে উপজেলা পরিষদ হলরুমে তেঁতুলিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্ম সচিব) আব্দুস সবুর, তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ লাইছুর রহমান।
বিচারপতি আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি স্বতন্ত্র ও দায়িত্বশীল পেশা। অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে একই সময়ে সাংবাদিকতা করা পেশাগত শৃঙ্খলা ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষকরা সরকারের বেতনভুক্ত তাই তাদের অন্য পেশা বা সাংবাদিকতা করার সুযোগ নাই। সাংবাদিকতার পরিচয় শুধু একটি পদবি বা পরিচয়পত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সত্যতা নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সাংবাদিকদের পালন করতে হয়। তাই সাংবাদিকতায় যুক্ত ব্যক্তিদের পেশাগত আচরণবিধি ও নীতিমালা মেনে চলা জরুরি।
প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত অনেকেই সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। কেউ শিক্ষকতা করছেন, কেউ ব্যবসা করছেন, আবার কেউ অন্য কোনো পেশায় যুক্ত থেকেও সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করছেন। এ ধরনের দ্বৈত পেশা সাংবাদিকতার পেশাগত স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে পেশাগত পরিচয় ও দায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। একজন সাংবাদিককে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত, পেশাগত কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের সময় সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও জড়িত।
বাংলাদেশ প্রস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্ম সচিব) আব্দুস সবুর বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, প্রভাব বিস্তার কিংবা অন্য কোনো স্বার্থ হাসিল করতে না পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পেশাদার সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে সাংবাদিক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাংবাদিকতার নীতিমালা ও আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার কথাও বলেন।
সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা বা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম নয়; বরং এটি জনগণের কাছে সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *