মোঃ ওয়াহেদুর রহমান, দিনাজপুর। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বোর্ডের অধীন আট জেলার ৪৯টি কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন কলেজ। জেলাভিত্তিক হিসাবে নীলফামারীর ১২টি, কুড়িগ্রামের ৭টি, ঠাকুরগাঁওয়ের ৯টি, রংপুরের ৩টি, দিনাজপুরের ৬টি, পঞ্চগড়ের ২টি, লালমনিরহাটের ৭টি এবং গাইবান্ধার ২টি কলেজ রয়েছে এ তালিকায়। শূন্য ফলাফলপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেড়ভেড়ী মাঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও নয়নখাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ; নীলফামারী সদরের আদর্শ কলেজ, পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তরনীবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সৃজনশীল কলেজ; ডোমারের জমিরবাড়ী মহিলা মহাবিদ্যালয়; জলঢাকার সমির উদ্দিন আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ; ডিমলার আদাবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গয়াখড়িবাড়ী নীলা কলেজ ও বন্দুকড়া নিমোজখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ, নাগেশ্বরীর নাগেশ্বরী মডেল কলেজ, কুটিপায়রাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চিলাখানা মডেল কলেজ, রাজারহাটের সিঙ্গার ডাবরীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও পান্থাপাড়া রানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চিলমারীর দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজও রয়েছে শূন্য পাসের তালিকায়। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর হরিণমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোরলহাট জনতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রত্নাই বগুলাবাড়ী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ; সদর উপজেলার কদম রসুলহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সালান্দার মহিলা কলেজ; রানীশংকৈলের ধূলঝাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গোগর কলেজ ও রাতোর নগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং পীরগঞ্জের একরামুল শহীদ সালাউদ্দীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এ ছাড়া রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাদীরাবাদ মহিলা কলেজ, কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও এমাদপুর কলেজ, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজহাট কলেজ ও সনকা আদর্শ কলেজ, ফুলবাড়ীর উত্তর লক্ষ্মীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বেপারীতলা আদর্শ কলেজ এবং হাকিমপুরের বোয়ালদার স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও হিলির পৌষগাড়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে এ তালিকায়। পঞ্চগড়ের বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আলহাজ তমিজ উদ্দিন কলেজ, লালমনিরহাটের তুষভাণ্ডার সোনারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুহুলী এসসি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গন্ধমরুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আমিনুর রহমান কলেজ এবং গাইবান্ধার ফকিরহাট মহিলা কলেজ ও জমারবাড়ী মহিলা কলেজ থেকেও কেউ পাস করতে পারেননি। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১ থেকে ৩ জন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৪ থেকে ১০ জন। চার-পাঁচটি কলেজে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ থেকে ২৪ জন। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন জানান, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। Post Views: 35 Post navigation হরিপুর সীমান্তে এলাকায় ৮৩ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট জব্দ