তিন দিনের ট্রেড শো-তে মার্কিন পণ্য, সেবা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তুলে ধরা হয়

ঢাকা : বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় নিয়ে শনিবার শেষ হলো ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬। ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ক্রিস্টাল বলরুমে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনের এই মেলার পর্দা নামে। মেলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য, সেবা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলায় নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শিল্প খাতের প্রতিনিধি ও দর্শনার্থীরা অংশ নেন। তারা নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ খুঁজে বের করা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক, প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি চিফ অব মিশন ত্রিশিতা মওলা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল; সংগঠনটির সাবেক সভাপতিদের মধ্যে আফতাব উল ইসলাম, সৈয়দ এরশাদ আহমেদ ও মো. নুরুল ইসলাম; অ্যামচ্যামের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা; ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা; অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি; ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথি।

মো. ফজলুল হক, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক, প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি, বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ইউএস ট্রেড শোর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে এবং নতুন বাজারের সম্ভাবনা অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করে। এ ধরনের উদ্যোগ ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

অ্যামচেম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “গত তিন দশক ধরে ইউএস ট্রেড শো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সংযোগ তৈরি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এবারের আয়োজনেও বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা উঠে এসেছে। বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরি এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে অ্যামচেম সরকার, মার্কিন দূতাবাস ও ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বেস্ট স্টল অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা। অংশগ্রহণকারী প্রদর্শকদের ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচিত বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলা ট্র্যাক লিমিটেড (বাংলাক্যাট)। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে শেভরন বাংলাদেশ ও এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি। তৃতীয় স্থান অর্জন করে লাল তীর সিড লিমিটেড। এছাড়া স্টার্টআপ জোনে সেরা স্টলের স্বীকৃতি পায় পালসটেক এবং কার্নিভাল জোনে সেরা স্টল নির্বাচিত হয় স্বপ্ন। ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল স্টল পরিকল্পনার স্বীকৃতিস্বরূপ এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ ও ফিলিপ মরিস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা উর রহমান মাহমুদ সমাপনী অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় তিনি ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬ সফলভাবে আয়োজনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, পৃষ্ঠপোষক, সহযোগী, অতিথি ও দর্শনার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গত ৫ থেকে ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই মেলায় অংশ নেওয়া মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিভিন্ন পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সুযোগ পান।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী মেলায় নারী নেতৃত্ব, জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাপ্রযুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের সুযোগ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্য এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে একাধিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেমিনারে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, নতুন সম্ভাবনা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনায় ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো, নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রসার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৩০তম ইউএস ট্রেড শোর সফল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্পর্ক শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে অ্যামচেমের অঙ্গীকার আবারও তুলে ধরা হয়।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *