চট্টগ্রাম, ৩ শ্রাবণ (১৮ জুলাই):
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষক কার্ডের পাইলট কর্মসূচিতে চলতি বছরে ৪৩ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের মধ্যম কচুয়াই ব্লকে কৃষক কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর ফলে দেশের কৃষি খাতের একটি সমন্বিত ও আধুনিক তথ্যভান্ডার গড়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি পরিকল্পনা ও সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, গত ১৬ জুলাই থেকে দেশব্যাপী কৃষক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় সার্ভারে যুক্ত হচ্ছে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার কৃষক নিবন্ধিত হয়েছেন এবং এই সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে।
মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকের জন্য নয়; দেশের সব কৃষকই পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচির আওতায় আসবেন। কৃষকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজারের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেই সরকার কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, দেশে বড়, মাঝারি, ক্ষুদ্র, ছোট, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিসহ বিভিন্ন শ্রেণির কৃষক রয়েছেন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি শ্রেণির কৃষকের জন্য আলাদা প্রকল্প ও সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তারা সরকারি সেবা ও সহায়তা সহজে পেতে পারেন।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক মানুষকে উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সহায়তা সময়মতো পৌঁছে দেওয়া। বড় কৃষকরা যাতে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা পান এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরাও প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা লাভ করেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে কৃষক যেন তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সে লক্ষ্যে উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করা হবে।
আমিন উর রশিদ বলেন, কোন এলাকায় কোন ফসল সবচেয়ে ভালো উৎপাদিত হয়, কৃষক কার্ডের তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে তা নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষজ্ঞ কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে উৎপাদনের মান উন্নয়ন, রোগবালাই দমন এবং ফলন বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। এতে উৎপাদনের অপচয় কমবে এবং কৃষক লাভবান হবেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *