ঢাকা :

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (Comprehensive Economic Partnership Agreement-CEPA) দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং এটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক জোট গঠনের একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও-এ দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু-ইয়ো এর সম্মানে আয়োজিত ডিনার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, ইআরডি সচিব মোহাম্মদ শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আতাউর রহমান খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার অভাবনীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে দেশটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া অল্প সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের জন্য দেশটির এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে শুরু হয়ে আজ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, উদ্ভাবন এবং যৌথ সমৃদ্ধির দৃঢ় অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। এ প্রেক্ষাপটে সিইপিএ চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরো গভীর ও বহুমাত্রিক করবে।
বাংলাদেশকে নিজের ‘দ্বিতীয় শহর’ হিসেবে উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্পভিত্তি ও বৃহৎ বাজার দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বড় সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রামে কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ–দক্ষিণ কোরিয়া বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি আগামী দুই দশকে দুই দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরো শক্তিশালী করবে। চুক্তির মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য আইনি কাঠামো গড়ে উঠবে, যা বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি ব্যবসায়ী মহলকে এই চুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ আলোচনায় সংশ্লিষ্ট উভয় দেশের কর্মকর্তা, আলোচক, কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং অংশীজনদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অবশিষ্ট আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অদূর ভবিষ্যতে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।

-ত.বি.

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *