ঢাকা :
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি কার্গো জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ আজ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করেছে। জাহাজটি বর্তমানে নিরাপদ বাংকারিং ও প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা (Fujairah) বন্দরের জলসীমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ জন ক্রু-এর সবাই বাংলাদেশি নাগরিক, যারা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।
‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। প্রাথমিকভাবে জাহাজটি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল বোঝাই করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে নিয়ে আসে। তবে জাহাজটি জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই অঞ্চলে তীব্র আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে জাহাজের কার্গো খালাস প্রক্রিয়া চরম হুমকির মুখে পড়লেও, যুদ্ধজনিত ঝুঁকির মাঝেই গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে স্টিল কয়েল কার্গো সফলভাবে খালাস সম্পন্ন করা হয়।
কার্গো খালাস সম্পন্ন হওয়ার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটির পক্ষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় জাহাজটি যেন অলস বসে না থাকে এবং চার্টারারের ‘হায়ার’ বা দৈনিক ভাড়া প্রাপ্তি যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় সেজন্য জাহাজটিকে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন ফার্টিলাইজার বোঝাই করে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন ও ডারবান বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা করানো হয়। গত ১৮ এপ্রিল ইরান নৌবাহিনী নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণ দেখিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজটির ট্রানজিট অনুমতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে জাহাজটি দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে পড়ে।
এ অবরুদ্ধ সময়ে জাহাজের ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের জন্য সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহে কখনোই কোনো ঘাটতি হয়নি। পাশাপাশি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদের বিশেষ প্রণোদনা এবং ‘ওয়ার ওয়েজ’ প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জাতীয় সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টির ওপর সার্বক্ষণিক নিবিড় নজরদারি রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
একই সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া ভিডিও কনফারেন্স ও ফোনালাপের মাধ্যমে জাহাজের ক্যাপ্টেন ও নাবিকদের সাথে নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য সকল ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এই গৌরবময় ও ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান, মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএসসির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং জাহাজের বীর নাবিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছে।

-ত.বি.

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *