সকালে তিন বেসুরো সাংসদকে নিয়ে মোদীর কাছে সুদীপরা গেলেন আর বিকেলে নবান্নে শুভেন্দুর কাছে বিধায়করা। দু’পক্ষই পেল আশ্বাস।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

একই দিন। দুই শহর। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির এবং তৃণমূল ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দেয়া দুই অংশই পেল ‘আশ্বাস’। এক দল আশ্বাস পেল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে। আর অন্য দলটিকে আশ্বাস দিলেন খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।আনন্দবাজার ডট কম

শুক্রবার সকালে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে প্রাতরাশ সারেন এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া)-এর ২০ জন সাংসদ। দলে ছিলেন তিন ‘বেসুরো’ সাংসদও। প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি পাশে রয়েছেন। চিন্তা করার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে খুশি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

তার কয়েক ঘণ্টা পরে শুক্রবার বিকেলে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষাৎ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ জন বিধায়ক। তাদের দাবি ছিল, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিবেচনাধীন ভোটাররা যাতে আপিল করতে পারেন, তা নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হোক। এই নিয়ে তারা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন। ঋতব্রতরা এ-ও জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। জানিয়েছেন, বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়বে না।

মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

সংসদে বিরোধীদের বিক্ষোভে প্রায় দিনই ভেস্তে যাচ্ছে অধিবেশন। তার মাঝেই শুক্রবার সকালে ৭, লোককল্যাণ মার্গের বাসভবনে এনডিএ-র নতুন ৪০ জন সাংসদের সঙ্গে প্রাতরাশ সারেন মোদী। সেই দলে ছিলেন এনসিপিআইয়ের ২০ জন সাংসদ। ছিলেন শিবসেনা, রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া (আঠাওয়ালে), রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা, এআইএডিএমকে, ইউপিপিএল। সূত্রের খবর, নতুন এনডিএ সাংসদরা অধিবেশনে কথা বলতে পারছেন না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোদী। তিনি জানিয়েছেন, এটা ঠিক হচ্ছে না। কারণ, সংসদে অধিবেশন মসৃণ ভাবে চলা উচিত। তার পরেই তিনি সুদীপদের আশ্বাস দিয়েছেন, পাশে রয়েছেন। চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। তিনি জানিয়েছেন, এনডিএ হল একটি পরিবার। সকল সদস্যই যোগ্য সম্মান পাবেন। সুযোগ পাবেন। নিজের কেন্দ্রে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রয়োজনে সরাসরি তারা যোগাযোগ করতে পারবেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরে।

বৈঠক শেষে উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব ভারতের উন্নয়নের উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। চল্লিশোর্ধ্ব সাংসদদের শরীর ঠিক রাখতে যোগাসন করার পরামর্শও দেন। বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবার সঙ্গে খুব ভাল করে কথা বলেছেন, গল্প করেছেন। প্রত্যেককে সংসদীয় এলাকায় গিয়ে উন্নয়নের কাজ করতে বলেছেন। এটাও বলেছেন যে, যাদের ৪০-এর উপর বয়স, তারা বছরে দু’বার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাবেন, যোগাসন করবেন।” শতাব্দী জানান, প্রধানমন্ত্রী চা খেতে খেতে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বললেন, আপনারা ভাল করে কাজ করুন। আমাদের লক্ষ্যই হল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, দেশের জন্য কাজ করা।’’

‘বেসুরো’ সাংসদেরাও উপস্থিত

সাংসদদের বেশ কিছু পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, শুক্রবার অন্য এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়েছিলেন তিন ‘বেসুরো’ সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পঠানও। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বেরিয়ে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের বলেন, “আমরা পশ্চিমবঙ্গ তথা মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি। রাজ্যে সংখ্যালঘুরা বিভিন্ন ভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে। ভারতের সর্বময় কর্তা প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই বিষয়ে আমরা জানিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতরাশ-বৈঠকের পর সাংসদেরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের এলাকায় আরও বেশি কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। দিয়েছেন স্বাস্থ্যসচেতনতার পাঠও।

গত কয়েক দিন ধরেই মুর্শিদাবাদের ওই তিন সংখ্যালঘু সাংসদ জানাচ্ছিলেন যে, তারা বিজেপি বা শাসকজোট এনডিএ-তে যোগ দিতে পারবেন না। গত মঙ্গলবার দিল্লিতে এনডিএ সাংসদদের বৈঠকেও এই তিন জন গরহাজির ছিলেন। তার পরেই কালীঘাট তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন বলেও জল্পনা ছড়ায়। সেই জল্পনা উস্কে শুক্রবারও কালীঘাট তৃণমূলের দিকে থাকা সাংসদ সৌগত রায় দাবি করেন যে, এনসিপিআই-তে থাকা কয়েক জন সাংসদ বিজেপির বিভাজনের রাজনীতিকে মেনে নিতে পারছেন না। এই আবহে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তৃণমূলত্যাগী ওই তিন সাংসদ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপিআই-এর আরও দুই সাংসদ শতাব্দী এবং অসিত মাল। শুক্রবার ওই তিন সাংসদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেও উপস্থিত ছিলেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *