বেশ কয়েকটি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন লিলি চক্রবর্তী এবং দেবশ্রী রায়। জন্মদিনে আনন্দবাজার ডট কমকে জানালেন তাদের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর কথা, একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেও ভুললেন না।

বিনোদন ডেস্ক :

দু’জনেই বড়পর্দার দাপুটে অভিনেত্রী। দু’জনে আলাদা প্রজন্মের হলেও একে অপরের সঙ্গে গাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে অনায়াসে। তারা লিলি চক্রবর্তী এবং দেবশ্রী রায়। ৮ অগস্ট দু’জনেরই জন্মদিন। ‘সুন্দর বৌ’, ‘তিস্তা’ , ‘ফেরারি ফৌজ’-এর মতো কয়েকটি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তারা। জন্মদিনে আনন্দবাজার ডট কমকে জানালেন তাদের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা, একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেও ভুললেন না।আনন্দবাজার ডট কম

জন্মদিনটা লিলি চক্রবর্তী বাড়িতেই কাটান। কাছেই বোনঝি থাকেন। তিনি নিয়ম করে প্রতি বছর জন্মদিনে পায়েস আনেন অভিনেত্রীর জন্য। তার জন্মদিনটা দেবশ্রী রায়েরও জন্মদিন, প্রতিবেদক মনে করিয়ে দিতেই লিলি একরাশ শুভেচ্ছা আর প্রাণভরা আশীর্বাদ জানালেন অনুজ অভিনেত্রীকে। বললেন ‘‘চুমকি খুব মিষ্টি মেয়ে। ছোট্টবেলায় কাজ করতে এসেছিল ও। আমার সঙ্গে মেকআপ রুমে থাকত। পুরো পরিবারের মতো ছিলাম। খুব গল্প করতাম আমরা, পুরনো দিনের গল্প বলতাম ওকে।’’

একসঙ্গে তাদের কাজের কথা তুলতেই লিলি বললেন, ‘‘কিছু জিজ্ঞাসা করলে ওকে বুঝিয়ে বলতাম, ও নিষ্ঠা ভরে শুনত। পরবর্তীকালে ভাল কাজ করেছে। বড় অভিনেত্রী হয়েও কোনও অহংকার ছিল না। অনেক কাজ করেছে সেইসময়, এখন যে বেছে বেছে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা খুব ভাল সিদ্ধান্ত।’’

দেবশ্রী রায়ের কাছে লিলি চক্রবর্তী আবার ‘লিলি মাসি’। লিলি অভিনীত ‘অচানক’ ছবিটি দেবশ্রী রায়ের অন্যতম পছন্দের ছবি। এই ছবিতে বিনোদ খন্নার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন লিলি, তা দেখেই মুগ্ধ হন দেবশ্রী। অভিনেত্রী জানান, ‘‘লিলি চক্রবর্তীর নাটক দেখতে মা প্রথম আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরেও গিয়েছি নাটক দেখতে। তবে যখন কাজ করতে গিয়েছি একেবারে মাতৃস্নেহ পেয়েছি লিলি মাসির কাছ থেকে। অভিনয় নিয়ে আমায় নানা উপদেশ দিয়েছেন, আমিও সেগুলো আমার কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছি। লিলি মাসি পান খেতেন, আমিও আবদার করতাম পান খাওয়ার। আগেকার শিল্পীরা এমনই ছিলেন। আউটডোর শুটিংয়ে গেলে আগলে রাখতেন আমায়। শাসনও করতেন প্রয়োজন পড়লে, এই দিনগুলো আজ খুব মিস্ করি।’’

আগেকার দিনের শুটিংয়ের ধরনও আলাদা ছিল। একসঙ্গে মেকআপ রুম ভাগ করে নিতেন নায়িকারা। এখনকার মতো এত মেকআপ ভ্যান তখনও আসেনি। লিলি চক্রবর্তী মনে করিয়ে দিলেন, ‘‘ছোটবেলায় চুমকি আবদারও করত আমার কাছে। পুরনো দিনের গল্প শুনতে চাইত। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করতাম। ওর আবদারেই তাস খেলতাম মেকআপ রুমে। এক বার মনে আছে তপন থিয়েটারে ও সৌমিত্রদা (সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়) আর আমার নাটক দেখতে এসেছিল। একসঙ্গে জন্মদিন হলেও, কিন্তু শুটিংয়ের মধ্যে কোনওদিন তা পড়েনি। এখন আর জন্মদিনে কিছু করি না। আগে জন্মদিনে কাজ করতাম। আর স্বামী জন্মদিন পালন করতেন, এখন থাকি। তাই এ দিনটা বাড়িতেই কাটাই। বাড়িতে কেউ এলে একটু গল্প করি। এখন তো অত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ নেই, এটাই একটু খারাপ লাগে।’’

পেশাগত বন্ধুত্ব পেরিয়েও অনেকটা সময় কাটানো যেত আগেকার দিনে। দেবশ্রীর কাছে ব্যক্তি ‘লিলি মাসি’ কেমন? অভিনেত্রী বলেন, ‘‘লিলি মাসি ব্যক্তিগত ভাবে খুবই নরম প্রকৃতির মানুষ। আমিও তাই। আমি যদিও দেখাই না। কিন্তু ভিতর থেকে আমি নরম মানুষই। আসলে শিল্পীরা তো খুব আবেগপ্রবণ হন। যেহেতু একই দিনে জন্মদিন তাই চরিত্র একরকম কি না বলতে পারব না। তবে এ টুকু জানি অগস্ট মাসে শিল্পজগতের যারা জন্মগ্রহণ করেন তারা মানুষের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তারা কাজের প্রতিও খুব সৎ থাকেন। তাই নিজেদের জায়গা ধরে রাখার চেষ্টা করেন।’’

দেবশ্রীও এখন বেছে বেছে কাজ করেন। জন্মদিন কী ভাবে কাটান তিনি? অভিনেত্রী বলেন, ‘‘এখন আর উদ্‌যাপন করি না। ২০২২-এ আমার মা আমায় ছেড়ে চলে গিয়েছেন, ২০২৪-এ আমার বড়দিও চলে গিয়েছেন। আর ২০২৫-এ আমার সেজদিও চলে গেলেন। আমার আর ভাল লাগে না। শহরে এত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে সেইগুলো খুব মনে পড়ে। মা পায়েস করতেন, সেটা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। এখন তো শুভেচ্ছা জানানোরও কেউ নেই। তাই এই দিনটা শহর ছেড়ে দূরে চলে যাই। আমার এক ভাই, আর দু’জন বন্ধু থাকবে। একটু দূরে থাকলে, গল্প করলে খানিকটা ভুলে থাকা যায়।’’

নানা কারণেই এখন আর নিত্য যোগাযোগ নেই দুই অভিনেত্রীর। তবে দেখা হলেই দু’জনেই বলে ওঠেন ‘আমরা কিন্তু একইদিনে জন্মেছি।’ দেবশ্রী আরও বলেন, ‘‘গত বছর অক্টোবর মাসে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল লিলি মাসির সঙ্গে। সেখানে জীবনকৃতি সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন। আমি সেই পুরস্কার তুলে দিয়েছিলাম ওর হাতে। ধারাবাহিক এবং ছবিতে কাজ করছেন, এতটাই ভালবাসা অভিনয়ের প্রতি। লিলি মাসি সুস্থ থাকুন, আর খুব ভাল থাকুন, আনন্দে থাকুন— আজ জন্মদিনে এই প্রার্থনাই করি।’’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *