ধর্মেন্দ্রের উদ্দেশে ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরের সামনে বিজেডির ছাত্র ও যুব শাখার সদস্যেরা ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি কৃষকের সন্তান। আপনারা আমায় গো ব্যাক বললেও আমি ফিরে আসব।’’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে কেন ইস্তফা দিয়েছিলেন, তা নিয়ে এ বার মুখ খুললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ওড়িশায় শনিবার একটি কর্মসূচিতে তিনি জানান, নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় যুবসমাজকে ‘ভুল পথে’ চালিত করা হচ্ছিল। সে জন্যই তিনি ওই সিদ্ধান্ত নেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে ইস্তফা দেয়ার কথা বলেন।আনন্দবাজার ডট কম

যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের জেরে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তার পরে শনিবারের একটি কর্মসূচিতে তিনি প্রথম প্রকাশ্যে সেই নিয়ে মুখ খোলেন। ভুবনেশ্বরে জিএম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল সেই কর্মসূচি। সেখানে পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের উদ্দেশে ভাষণে ওড়িশার সম্বলপুরের সাংসদ বলেন, ‘‘জেন জ়ি (এটি আদতে আমেরিকায় বিপণন কৌশলের অঙ্গ হিসেবে বয়সভিত্তিক বিভাজন, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মানো প্রজন্মকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়) আমাদের সন্তান। কিছু মানুষ তাদের ভুলপথে চালিত করতে চেয়েছিলেন। আমার তখন ব্যক্তিগত কোনও বিষয় ছিল না।’’

তার পরেই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, সেই যুবসমাজের কথা ভেবেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। তার কথায়, ‘‘প্রতি বছর দেশে ২ কোটি শিশু জন্মায়। গত ১০ বছরে ২০ কোটি শিশু জন্মেছে। ওদের একটা লক্ষ্য রয়েছে। ওরাই দেশকে বিশ্বগুরু করবে। পদ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।’’ তিনি জানান, এই কথা ভেবেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে ইস্তফার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ধর্মেন্দ্রের উদ্দেশে ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরের সামনে বিজেডির ছাত্র ও যুব শাখার সদস্যেরা ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘আমি কৃষকের সন্তান। আপনারা আমায় গো ব্যাক বললেও আমি ফিরে আসব।’’ তার পরেই তিনি এই প্রসঙ্গে বিজেডি প্রধান তথা ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ককে একহাত নেন। তার কথায়, ‘‘নবীনবাবু বলেন, আমি ওড়িশার মানুষের কলঙ্ক। সে রকম কি কিছু আমি করেছি?’’ তখন দর্শকাসন থেকে উত্তর আসে, ‘‘না।’’

নবীনের নির্দেশে ধর্মেন্দ্রকে অপমান করা হয়েছে এমন তত্ত্ব মানতে নারাজ বিজেডি।। দলের সম্বলপুরের সভাপতি রোহিত পূজারি জানান, ধর্মেন্দ্রকে কেউ অপমান করেননি। যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে, লাঠি চালিয়ে তাকে তার দলই অপমান করেছে। সেই ঘটনার জন্যই ধর্মেন্দ্র এখন সমালোচিত হচ্ছেন। সূত্রের খবর, ধর্মেন্দ্রকে ঘিরে বিক্ষোভ যাতে বাড়তে না পারে, তাই ওড়িশা পুলিশ আগেভাগেই ৩০ জন বিজেডি কর্মিকে আটক করেছে।

নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের দাবি ছিল ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা। শেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। ইস্তফা দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, যুবসমাজের কথা ভেবেই এই পদক্ষেপ। তার কথায়, ‘‘কোনও মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না, কারও সঙ্গে অন্যায় হতে দেব না— এটাই আমার সঙ্কল্প ছিল। গত ১০ দিনের ঘটনাক্রমে আমি ব্যথিত। যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলি যাতে তার সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যাতে অটুট থাকে, কোনও পড়ুয়া যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়ে, আমাদের সন্তানরা যাতে কেরিয়ারে মনোনিবেশ করতে পারে, সে কথা বিবেচনা করে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *