আটপিড়া প্রতিসিধি :
অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ারুল হক বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জন, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ। চিকিৎসা, শিক্ষা, সমাজসেবা এবং রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সফল কর্মজীবনের মাধ্যমে তিনি নেত্রকোনা তথা বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি নেত্রকোনা-২ (নেত্রকোনা সদর–বারহাট্টা) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি।

তিনি ১৯৬৭ সালের ১ এপ্রিল নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আলহাজ মোঃ আব্দুল হামিদ ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক এবং মাতা মরহুমা নূরজাহান বেগম। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি অর্জনের পর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) থেকে অর্থোপেডিক সার্জারিতে এম.এস. (MS) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মিনিমালি ইনভেসিভ স্পাইন সার্জারি (M.I.S.S.) বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

কর্মজীবনে তিনি কমিউনিটি বেইজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহে অর্থোপেডিক সার্জারির অধ্যাপক, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেসিডেন্ট সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। ১৯৮৮ সালের বন্যা, ২০০৫ সালের ঘূর্ণিঝড়, ২০১২ সালের টর্নেডো এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ, ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। ১৯৯০ সালে নিজ এলাকায় দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও অপারেশন ক্যাম্পের আয়োজন করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের উন্নয়নে নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন।

অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ারুল হক ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক এবং বর্তমানে সভাপতি নির্বাচিত হন। পাশাপাশি তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ড্যাবের আজীবন সদস্য হিসেবে সংগঠনটির কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোনা-২ (সদর–বারহাট্টা) আসন থেকে নির্বাচন করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় বিএনপির মনোনয়ন লাভ করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ১,৭১,৩৯৯ ভোট পেয়ে জেলার সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১,০৪,০৩২ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ারুল হক একজন সাদাসিধে, বিনয়ী ও মানবিক মানুষ। তার সহধর্মিণী ডা. লুৎফা হকও একজন চিকিৎসক। চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার সততা, মানবিক মূল্যবোধ ও জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার তাকে নেত্রকোনাবাসীর আস্থাভাজন ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *