• পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী


হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) :

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, বর্তমান সরকার হালদা নদী সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। হালদা নদীর ওপর নির্ভরশীল যেসব মৎস্যজীবী মা-মাছ ও রেণু রক্ষার স্বার্থে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন, তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকার সেলাই মেশিন ও গবাদিপশু বিতরণ করছে।
গতকাল চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক বহুমুখী কল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সরকার ঘোষিত আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারা বিতরণ ও রোপণ, প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীর নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, কৃষি বিভাগের আমন প্রণোদনা এবং সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কথায় নয়, দৃশ্যমান কাজে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে দেশে প্রকৃত কোনো উন্নয়ন হয়নি; বরং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দেশজুড়ে চলেছে সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট। সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে সরকারের সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সমাজের অধিকাংশ পরিবারই অনেক সময় তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্যদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খায়।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এর আগে, একই দিন সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে উপস্থিত হন। সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম কর্তৃক এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার প্রথাগত ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ প্রায় ১০টি ধারা বা ব্যবস্থাপনা চালু রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদয় নির্দেশনায় এবং সরকারের সুনির্দিষ্ট শিক্ষানীতি অনুসরণ করে শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এসব শিক্ষা পদ্ধতি পরিচালনা করছেন। বর্তমান সরকার শিক্ষার মূল কারিকুলামের সাথে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে যুক্ত করেছে, যাতে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ আধুনিক শিক্ষানীতি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মূল কারিগর হলেন শিক্ষকরা। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত ও সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো শিশু ঝরে না পড়ে। তিনি বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দৃঢ় মনোবলসম্পন্ন ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে প্রস্তুত থাকতে হবে।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন পূরণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

-ত.বি.

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *