ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে ২৪.৬০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। শ্রমিক কল্যাণ ও দায়িত্বশীল কর্পোরেট কার্যক্রম অনুসরণে নিজেদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে গ্রামীণফোন এ অর্থ জমা দিয়েছে। প্রদানকৃত অর্থ প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের শ্রমিকদের লভ্যাংশ অংশগ্রহণ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) ১০ শতাংশ।

ঢাকায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর হাতে চেক হস্তান্তর করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। গ্রামীণফোনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন হেড অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস অ্যান্ড কালচার মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন; হেড অব কমপেনসেশন, বেনিফিটস অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স মোহাম্মদ খালেদ মৃধা; সিনিয়র ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস এক্সপার্ট মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস এক্সপার্ট মো. হারুন অর রশিদ।

গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেন বলেন, দায়িত্বশীল কর্পোরেট নাগরিক হওয়ার বিষয়টি গ্রামীণফোনের সার্বিক পরিচালন প্রক্রিয়ারই অংশ। আমাদের প্রতিশ্রুতি শুধুমাত্র কানেক্টিভিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আমরা একটি নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেখানে আমাদের কর্মীরা প্রতিনিয়ত নতুন বিষয় শিখতে, অভ্যস্ত হতে এবং ভবিষ্যৎ-উপযোগী ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। এই প্রদানকৃত অর্থ কর্মী কল্যাণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা ওপর গ্রামীণফোনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে এই যৌথ পথচলার মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হল দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, যারা এই পরিবর্তনশীল ডিজিটাল পরিবেশে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারবে এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। “

বাংলাদেশ শ্রম আইনের অধীনে স্থানীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বছর শেষে তাদের মুনাফার ৫ শতাংশের এক-দশমাংশ শ্রম কল্যাণ তহবিলে জমা দেয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে গ্রামীণফোন একটি দায়িত্বশীল কর্পোরেট কোম্পানি এবং এই তহবিলের অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী হিসেবে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে ২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৩২৯ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৭ টাকা জমা দিয়েছে। আর ২০২৫ অর্থবছর এ তহবিলে আরও ২৪ কোটি ৬০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬৫ টাকা তহবিলে জমা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভবিষ্যৎ-উপযোগী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গ্রামীণফোন তাদের কর্মীদের ডিজিটাল ও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ডিজিটাল দক্ষতা ও নতুন সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। ‘গ্রামীণফোন একাডেমি’, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি প্রোগ্রাম’, ‘ফিউচারমেকার্স’ এবং ‘প্ল্যাটফর্মশি’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তরুণ, নারী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
-প্রেস রিলিজ

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *