ঢাকা :
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন বলেছেন, যেকোনো অসুস্থ মানুষকে সেবা প্রদান করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, যেখানে সমাজের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব সিস্টিক ফাইব্রোসিস দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস, এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এ শিশু হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা পর্যায়ক্রমে সেবার পরিধি বাড়িয়ে আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিশু হাসপাতালে রূপ নিয়েছে। শিশু হাসপাতালে বিরল এই রোগের আধুনিক ‘স্টেম সেল থেরাপি’ কার্যক্রম চালু করায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এফবিআই স্ট্যান্ডার্ডের ডিএনএ ল্যাব চালু করা হবে, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক পর্যায়েই হত্যা, ধর্ষণ কিংবা অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তকরণের মতো জটিল মামলার নির্ভুল আলামত পরীক্ষা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী স্বাস্থ্যখাতে সরকারের বাজেট বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে গবেষণার ওপর অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করার আহ্বান জানান। তিনি গবেষণা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনে এই ইনস্টিটিউট আরো ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, বিশ্বের ৯৬টি দেশে বর্তমানে আনুমানিক দুই লাখ মানুষ প্রাণঘাতী ‘সিস্টিক ফাইব্রোসিস’ (সিএফ) রোগে আক্রান্ত হলেও তাদের মাত্র ৫৯ শতাংশের রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, জীবন রক্ষাকারী আধুনিক ‘ইটিআই’ চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন মোট রোগীর মাত্র ২৭ শতাংশ, আর রোগ শনাক্ত না হওয়া ব্যক্তিদের বড় একটি অংশই বসবাস করছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। রোগ নির্ণয়ের অপ্রতুলতা এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার সুযোগ সীমিত থাকায় এসব অঞ্চলের আক্রান্ত ব্যক্তিরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গবেষক, কর্মকর্তা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
-ত.বি.

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *