ঢাকা :আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি পরমাণু বিজ্ঞানের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের বক্তব্যে গতকাল ভিয়েনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আইএইএ-এর ৭০তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানান এবং আইএইএ-এর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসিকে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএ-এর টেকনিক্যাল কো-অপারেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সুফল পেয়ে আসছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ২০২৬–২০৩২ মেয়াদের Country Programme Framework স্বাক্ষর করেছে, যা আগামী বছরগুলোতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। বাংলাদেশ সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী আরও বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণে আইএইএ-এর ‘Rays of Hope’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।মন্ত্রী আরও বলেন, তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের অগ্রাধিকার। পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে টেকসই উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বক্তব্যের শেষে বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি মন্ত্রী শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রসার, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার ও টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান।-ত.বি. Post Views: 29 Post navigation কেমিক্যাল ও শিল্পখাতে স্বনির্ভরতার অঙ্গীকার নিয়ে ‘রেডমিন হরাইজন -২০২৬’আয়োজন Photo : President