পাঁচ বছরের লুলুর সঙ্গে থাকা দুই পর্বতারোহী একটি তুষারধসের কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর প্রতিকূল পরিবেশে আটকে পড়ে লুলু। হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় দীর্ঘ সময় একাই লড়াই করতে হয় তাকে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আলাস্কার হিমশীতল, জনমানবহীন তুষারে ঢাকা প্রান্তর। চারদিকে শুধু বরফ আর তীব্র ঠাণ্ডা। তার উপর তুষারধস। এমন প্রতিকূল পরিবেশে টানা ৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় একা কাটিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল পাঁচ বছরের কুকুর লুলু। পুডল ও হাস্কির সংকর প্রজাতির এই কুকুরটিকে উদ্ধার করার ঘটনায় হইচই পড়েছে সমাজমাধ্যমে। কুকুরটিকে উদ্ধারের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পাঁচ বছরের লুলুর সঙ্গে থাকা দুই পর্বতারোহী একটি তুষারধসের কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করা হলেও দুর্ঘটনার পর প্রতিকূল পরিবেশে আটকে পড়ে লুলু। চারপাশে জনবসতি নেই, নেই খাবার বা আশ্রয়ের কোনও নিশ্চয়তা। হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে একাই প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে হয়। পর্বতারোহীদের উদ্ধার অভিযানে নামে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যেরা। দু’দিন ধরে মরিয়া হয়ে অনুসন্ধান চালান তারা। স্বেচ্ছাসেবী হেলিকপ্টার চালকরা আলাস্কার চুগেচ স্টেট পার্কের বরফঢাকা প্রান্তরে লুলুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পান। হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা আর জনমানবহীন পরিবেশের মধ্যে ৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকার পর তার খোঁজ মেলে।

লুলুকে উদ্ধারের সেই ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে নেটাগরিকদের। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, চারদিকে বরফে ঢাকা বিস্তীর্ণ প্রান্তরে কুকুরটি উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঠিক সেই সময়ই উদ্ধারকারীদের নজরে আসে সে। দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে লুলুকে খুঁজে পাওয়া যায়।

?
কুকুরের মালিক, লরেন প্যাডাওয়ার, বিদেশে ভ্রমণরত অবস্থায় দুর্ঘটনাটির খবর পান। নিজে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে না পেরে তিনি সাহায্যের আবেদন জানান সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁর সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন ২০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক। পর্বতারোহী, হেলিকপ্টার চালক, ড্রোন অপারেটর এবং গন্ধ শুঁকে খোঁজ করতে সক্ষম একটি কুকুরকে নিয়ে গড়ে তোলা হয় বিশেষ উদ্ধারকারী দল। দুর্গম বরফঢাকা প্রান্তরে লুলুর সন্ধানে শুরু হয় সমন্বিত তল্লাশি অভিযান। লুলুর গলায় লাগানো অ্যাপল এয়ারট্যাগই প্রথমে তার খোঁজ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। তবে, এয়ারট্যাগের অবস্থান দেখে উদ্ধারকারীরা যে জায়গাটিকে সম্ভাব্য অনুসন্ধানস্থল বলে মনে করেছিলেন, লুলুকে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে প্রায় দেড় কিমি দূরে পাওয়া যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি, তুষারধসের ঘটনাস্থলে পৌঁছোনোর চেষ্টা করেও কয়েক জন স্বেচ্ছাসেবককে নিরাপত্তার কারণে ফিরে আসতে হয়।

৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালানোর পর স্বেচ্ছাসেবী হেলিকপ্টার চালক আমান্ডা বার্কার ও ডেভ বেকেট অনুসন্ধানের পরিধি আরও নির্দিষ্ট করেন। অবশেষে তাঁদের নজরে আসে বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা লুলু। দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও প্রতিকূলতার অবসান ঘটিয়ে কুকুরটির সন্ধান পাওয়ার ভিডিয়োটি ‘অ্যাকুওয়েদারের’ এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *