আসাদ হোসেন রিফাতঃ

বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচ—সব মিলিয়ে আলু চাষে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন, লালমনিরহাটের আলু চাষিরা।
আলুর উৎপাদন খরচ লাগামহীন ভাবে বাড়তে থাকলে চাষিরা আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। এসব বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপ জোরদার করা জরুরি।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই সার ও কীটনাশকের দাম চড়া। ক্ষেত্র বিশেষে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে তাদের। এর ওপর জ্বালানি তেল (ডিজেল) দাম বাড়ায় চরঞ্চলের জমিতে সেচ দিতে গিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। সামনে সেচ ও সার প্রয়োগের ভরা মৌসুম থাকলেও বাড়তি খরচের বোঝা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন জেলার সাধারণ চাষি ও বর্গা চাষিরা।

কৃষকরা জানান, সমতলের চেয়ে চরঞ্চলের জমিতে সার ও সেচের পরিমান অনেক বেশি লাগে। প্রতি বিঘা জমিতে আলু রোপণ থেকে তোলা পর্যন্ত সেচ ও সারের ওপরই সিংহভাগ খরচ চলে যায়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী সার ও সেচের খরচ গত কয়েক বছরের তুলনায় বিঘা প্রতি কয়েক হাজার টাকা বেড়ে গেছে। ফলে মোট উৎপাদন খরচ অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরের আলু চাষি মহুবার বলেন, “সার ও সেচের যে দাম, তাতে এবার আলু চাষ করে লাভ তোলা দূরে থাক, আসল টাকা উঠবে কি না তা নিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি না। গত বছরও ন্যায্যমূল্য পাইনি, এবার খরচ আরও বেশি।

কৃষি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলুর উৎপাদন খরচ লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকলে চাষিরা আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। সার ও সেচ বাবদ খরচ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি আলু বিক্রির সময় যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপ জোরদার করা জরুরি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *