২০১১ সালে বিয়ে, ২০১৯ সালে আলাদা থাকা শুরু। পরে বিচ্ছেদ। তবে কেন অভিনেতা ইমরান খান ও অবন্তিকা মালিক আলাদা হয়েছিলেন, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তাঁরা। এ বার সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অবন্তিকা।

বিনোদন ডেস্ক :

দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১১ সালে বিয়ে করেছিলেন আমির খানের ভাগ্নে তথা অভিনেতা ইমরান খান ও অবন্তিকা মালিক। কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে আলাদা থাকা শুরু। পরে বিচ্ছেদ হয় তাদের। এর আগে বিচ্ছেদ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেননি অবন্তিকা। তবে ২০২৪ সালে ইমরান তাদের দাম্পত্যের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। এ বার সোহা আলি খানের চ্যাট শোয়ে বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অবন্তিকা।সম্প্রতি সোহা আলি খানের চ্যাট শোয়ে হাজির হয়ে বিচ্ছেদ নিয়ে কথা বললেন অবন্তিকা। জানালেন, ইমরানই প্রথম আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাদের বিচ্ছেদকে অবন্তিকা বর্ণনা করেছেন ‘জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মৃত্যু’ হিসেবে।আনন্দবাজার ডট কম

অবন্তিকার কথায়, “আসলে সিদ্ধান্তটা ও-ই নিয়েছিল। আমার নিজের ক্ষতি হলেও আমি কখনও এই সিদ্ধান্ত নিতাম না। সিদ্ধান্তটা ওরই ছিল।” তিনি জানান, প্রথমে কিছু দিনের জন্য আলাদা থাকতে চেয়েছিলেন ইমরান। তার ছ’মাস পরে দু’জনে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।

বিচ্ছেদের প্রথম দিকের মানসিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে অবন্তিকা বলেন, “যখন প্রথম আলাদা হলাম, তখন মনে হয়েছিল, নিজের জীবন নিয়ে এত দিন যে ধারণা ছিল, ভবিষ্যৎ নিয়ে যা ভেবেছিলাম, জীবন যে ভাবে এগোবে বলে কল্পনা করেছিলাম, তার সব কিছুরই যেন মৃত্যু ঘটল। সেই সময় জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটিরও মৃত্যু হয়।”

অবন্তিকা আরও জানান, খুব অল্প বয়সেই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। তখন বুঝতে পারেননি, নিজের জীবনে সুখী ও সন্তুষ্ট থাকার দায়িত্ব নিজেরই, অন্য কারও নয়। তার কথায়, “সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের থেকে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হয়। আর সেই প্রত্যাশার কারণেই অজান্তে সম্পর্কটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলি আমরা।”

বিবাহবিচ্ছেদের পিছনে কোনও একটি বড় ঘটনা দায়ী নয় বলেও জানিয়েছেন অবন্তিকা। খুব অল্প বয়স থেকেই তারা একসঙ্গে ছিলেন। পিছন ফিরে তাকালে তার মনে হয়, দু’জনে একে অপরের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। বিয়ে বাঁচানোর জন্য যে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন, সে কথাও জানিয়েছেন অবন্তিকা। তার কথায়, “আমরা সব রকম চেষ্টা করেছিলাম। এমনকি যখন মনে হচ্ছিল, আর একসঙ্গে থাকা সম্ভব কি না, তখনও আমরা বলতাম, ‘চলো, আরও একটু চেষ্টা করি।’”

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অবন্তিকা বলেন, আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর এক তরুণী হয়ে ওঠার সুযোগ তিনি পাননি। তাই ১৯ বছর বয়সি নিজেকে একটি পরামর্শ দিতে চান তিনি। অবন্তিকার কথায়, “আমি তখনকার নিজেকে হয়তো বলতাম, ‘একটু থামো। বিয়ে, প্রেম আর সন্তান— সব কিছুর জন্যই যথেষ্ট সময় রয়েছে। তার আগে নিজের জীবনটা গুছিয়ে নাও।’”

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অন্য একটি কারণে খবরের শিরোনামে রয়েছেন ইমরান। মুম্বইয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার কারণে তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে মুম্বইয়ের ফরেনার্স রিজিয়োনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস ও পুলিশের তরফে তাকে ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিস’ (এলআইএন) দেয়া হয়।

মার্কিন নাগরিক ইমরানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা। আগামী ২৬ অক্টোবর এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *