নিউটার্ন ধর্ম ডেস্ক : মানুষের অন্তর যখন দুশ্চিন্তা, ভয়, হতাশা ও অনিশ্চয়তায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন সে মানসিক প্রশান্তির জন্য নানা উপায় খোঁজে। অথচ আল্লাহর স্মরণ মানুষের অন্তরকে প্রশান্ত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

কারণ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস মানুষকে তাঁর সৃষ্টিকর্তার পরিচয়, জীবনের উদ্দেশ্য এবং পরকালের জবাবদিহি সম্পর্কে সচেতন করে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়। জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)
ঈমানের প্রকৃত স্বাদ উপলব্ধি করার অর্থ হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ইসলামের প্রতি সন্তুষ্টি এবং মহানবী (সা.)-এর রিসালাত ও আদর্শের প্রতি আন্তরিক আনুগত্য গড়ে তোলা।

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তির মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে, সে ঈমানের মাধুর্য অনুভব করবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া; কাউকে ভালোবাসলে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা; আর কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো অপছন্দ করা, ঈমানের মাধ্যমে আল্লাহ যেখান থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৬)
ঈমানের প্রথম ভিত্তি হলো আল্লাহ তাআলাকে একমাত্র স্রষ্টা, প্রতিপালক ও উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস করা। তিনিই জীবন ও মৃত্যুর মালিক, সমগ্র সৃষ্টিজগতের নিয়ন্ত্রক এবং মানুষের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সবকিছুর জ্ঞাতা। তাঁর রহমত ও অনুগ্রহ ছাড়া কোনো সৃষ্টিই প্রকৃত অর্থে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৩)
ইসলামের বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক দায়িত্ব, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩)

ঈমানের স্বাদ উপলব্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মহানবী (সা.)-এর প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা।

কেননা তাঁর জীবন ছিল সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা, দয়া, ক্ষমাশীলতা ও উত্তম চরিত্রের অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ—তার জন্য, যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ২১)
মানুষের জীবন কখনো একরকম থাকে না। কখনো আসে আনন্দ, সাফল্য ও প্রাচুর্য; আবার কখনো নেমে আসে দুঃখ, ব্যর্থতা, অসুস্থতা ও নানা সংকট। ঈমানের অন্যতম শিক্ষা হলো, জীবনের এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা অটুট রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিনের ব্যাপারটি আশ্চর্যজনক! তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর। আর এটি মুমিন ছাড়া অন্য কারও জন্য নয়। তার আনন্দের কিছু ঘটলে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর তার দুঃখের কিছু ঘটলে সে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তা-ও তার জন্য কল্যাণকর হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৯৯)

মানুষের জীবনে অতিরিক্ত প্রত্যাশা, অন্যের সঙ্গে তুলনা এবং যা নেই তা নিয়ে অবিরাম অসন্তোষ অনেক সময় অন্তরের শান্তি নষ্ট করে দেয়। একজন মানুষ যখন নিজের প্রাপ্তির পরিবর্তে শুধু অপ্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে থাকেন, তখন তাঁর কাছে জীবনের অনেক নিয়ামতও মূল্যহীন মনে হতে পারে। তাই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যাতে তোমরা যা হারিয়েছ, তার জন্য দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন, তার জন্য অতিরিক্ত উল্লসিত না হও।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২৩)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
নিউটার্ন/এআর

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *