মোঃ ওয়াহেদুর রহমান, দিনাজপুর।।দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় লোকসানের শঙ্কা নিয়েও লাভের আশায় আগাম জাতের আলু চাষে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় আগেভাগেই অনেকে জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ শুরু করেছেন। তবে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। এর পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং মৌসুমের শুরুতে বাজারদর ভালো পাওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে কৃষকদের মধ্যে।চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, চিরিরবন্দর উপজেলায় ১২ টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৮ শত ৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৯৬৬৪ মে.টন। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ২৪.৯ মে.টন/হেক্টর। আগাম ৯৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৭১০০ মে.টন। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ মে.টন/হেক্টর। এ পর্যন্ত ২০৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু রোপন করা হয়েছে। তবে অত্র উপজেলার ৪ নং ইসবপুর, ৮নং সাইতারা ও ৭নং আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আগাম জাতের আলু চাষাবাদ করা হয়। এ এলাকায় এসটারিক্স, গ্রামুলা, রোমানা ও বারি -৭ আগাম জাতের আলু চাষ করা হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ নং আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের খুলনাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কাশিদেব রায় জানান, এসটারিক্স জাতের আলু আগাম বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার আশা থাকে। তবে বাজারের পরিস্থিতির উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। চাষের খরচ দিন দিন বাড়ছে। আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন। তাই তিনি এবার আগাম এসটারিক্স জাতের আলু ৩ একর জমিতে রোপন করেছেন। তন্মধ্যে দেড় একর লোকাল বাকি দেড় একর জমিতে অফিসিয়াল বীজ তৈরী করবেন। তিনি বলেন, লোকাল আলু ৫৫-৬০ দিনের মধ্যে বাজারে তোলা যাবে কিন্তু অফিসিয়াল আলুর বীজে সময় লাগে ৯০ দিন। বড়গ্রাম এলাকার কৃষক আবুল হোসেন জানান, আগাম জাতের আলু চাষে খরচ অনেক। জমি তৈরী করা থেকে শুরু করে বীজ, সার, কীটনাশক প্রচুর টাকা লাগে। বাজারে শুরুতে দাম ভালো পেলে লাভ হবে, কিন্তু দর কমে গেলে লোকসান গুনতে হবে। তবুও লাভের আশায় আগাম এসটারিক্স জাতের আলু রোপন করার জন্য ৫ একর জমি প্রস্তুত করছেন। ৮ নং সাইতারা ইউনিয়নের পশ্চিম সাইতারা গ্রামের কৃষক নাজমুল হক জানান, ১১ একর জমিতে আগাম গ্রানুলা, সানসাইন জাতের আলু রোপন করেছেন। একই গ্রামের শাহাদাত হোসেন সোহাগ ৭ একর জমিতে আগাম রুমানা জাতের আলু রোপন করেছেন। একই গ্রামের নিরঞ্জন রায় ৩ একর জমিতে গ্রানুলা জাতের আলু রোপন করেছেন। ৮ নং সাইতারা ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিনহাজুল হক নবাব জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। লেট আলুর চেয়ে আগাম আলুর দাম বেশি। সে কারণে এলাকার কৃষকরা আগাম আলু চাষে উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে। মিনহাজুল হক নবাব আরও জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কৃষকদেরকে আগাম আলু চাষ করার সময় সকল ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছেন। এছাড়াও ইউনিয়নে তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে উচ্চমূল্য ফসল চাষাবাদ সম্প্রসারণসহ আধুনিক চাষাবাদের কলা কৌশল নিয়ে কাজ করছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা জানান,প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আগাম আলুর চাষ শুরু হয়েছে। উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৫০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু রোপন সম্পন্ন করা হয়েছে। আগাম আলু ৫৫-৬০ দিনেই উত্তোলন করে বাজারজাত করা যায়। ফলে কৃষকরা ভালো দাম পেয়ে থাকেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ভালো ফলনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।তিনি আরও জানান, এবার কৃষকদের সুবিধার্থে সার বিতরণ কার্ড তৈরী করা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের জমির উপর ভিত্তি করে বিতরণকৃত কার্ডে সারের পরিমাণ লিখে দিচ্ছেন। সেই কার্ড নিয়ে কৃষকরা ডিলারদের কাছে যাওয়ার সাথে সাথেই সার পাচ্ছেন। Post Views: 44 Post navigation আটপাড়ায় জমি দখল ও অপপ্রচারের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগের নানা উদ্যোগ