নিউটার্ন আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রাজিলের বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর সোমবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। লুলার এ বিজয়কে বাম ও ডান উভয়পন্থী নেতারাই স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। নির্বাচনে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন লুলার বিজয়কে ‘গণতন্ত্র ও বহুপক্ষীয়তার বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের সঙ্গে ইউরোপের অংশীদারত্ব সমৃদ্ধ হচ্ছে।’ মেক্সিকোর বামপন্থী প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম রোববার লুলার বিজয় উদযাপন করেন। এক্সে তিনি লেখেন, ‘গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক, ব্রাজিলের জনগণ জয়ী হয়েছে।’ কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল লুলাকে তার ‘ঐতিহাসিক বিজয়ের’ জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ জয় শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। দুর্নীতির মামলায় বর্তমানে গৃহবন্দি আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্তিনা কির্শনার এক্সে বলেন, লুলা ‘নিজের দেশবাসীর মধ্যে বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুভূতি ও উপলব্ধি জাগিয়ে তুলতে পেরেছেন’। উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি এক্সে জানান, তিনি লুলার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ‘তার বিজয় ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত গণতান্ত্রিক উদযাপনের জন্য’ অভিনন্দন জানিয়েছেন। ‘গণতন্ত্রের দিন’ লুলার বিজয়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিল এমন এক রক্ষণশীল রাজনৈতিক ঢেউয়ের বিপরীতে অবস্থান ধরে রাখল, যার প্রভাবে আর্জেন্টিনা, চিলি, কলম্বিয়া ও পেরুর মতো লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ ডানপন্থার দিকে ঝুঁকেছে। এ ধারাকে সমর্থন দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেরুর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি ব্রাজিলের নির্বাচনী দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং লুলাকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। এক্সে তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের জনগণের কল্যাণে কৌশলগত অংশীদারত্ব, একীভূতকরণ, সহযোগিতা এবং আমাদের অভিন্ন আমাজন অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন জোরদারে কাজ করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করছি।’ বলসোনারোর ঘনিষ্ঠ মিত্র চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত এক্সে বলেন, ‘চিলি ও ব্রাজিলের সামনে একটি অভিন্ন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে।’ ইকুয়েডরের রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া লুলার চতুর্থ মেয়াদে তার সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানান। নোবোয়া বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলের অভিন্ন শত্রু রয়েছে, রয়েছে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ। একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের অর্জনের সুযোগও অনেক।’ ‘প্রগতিশীলদের প্রত্যাবর্তন’ স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ লুলার বিজয়কে ‘প্রগতিশীলদের প্রত্যাবর্তনের’ সূচনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। নিজ দেশে নভেম্বরের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা সানচেজ বলেন, ‘ব্রাজিলে যা ঘটেছে, স্পেনেও তা ঘটবে।’ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ব্রাজিলের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের’ আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিকসের বর্তমান সভাপতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লুলাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। ব্রাজিলও এ ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোটের সদস্য। মোদি বলেন, ‘ভারত-ব্রাজিলের বহুমুখী কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর ও বিস্তৃত করতে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’ ব্রিকসের আরেক সদস্য রাশিয়াও লুলার বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছে। ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ছাড়াও ব্রিকসের কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে লুলা ‘অনেক অবদান রেখেছেন’। চীনও লুলাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘চীন-ব্রাজিল অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রাখতে’ বেইজিং ব্রাজিলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ও বামপন্থী রাজনীতিক বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ‘লুলা ব্রাজিলের শ্রমিক ও গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন এবং আগামী চার বছরও তা অব্যাহত রাখবেন।’নিউটার্ন/এআর Post Views: 11 Post navigation শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসা চেয়েছেন আটকে পড়া ইরানি নাবিকেরা