পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে ‘সরকারি পরিষেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও অভিগম্যতা’ শীর্ষক একটি সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মিলনে দেশের ১০টি জেলার ৩৩টি স্থানীয় নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসব সংগঠন প্রান্তিক নারী, জেন্ডার বৈচিত্র্যের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব সঞ্চালনা করেন আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক। স্বাগত বক্তব্য দেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
সভাপতিত্ব করেন এশিয়ান এমসিসি, ক্রিশ্চিয়ান এইডের পার্টনারশিপ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি লিড নুজহাত জাবিন। প্রান্তিক নারী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন দীপ্তী পাহান ও শেফালী বৈরাগী।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. তরিকুল আলম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা) মো. সাজ্জাদুল ইসলাম, চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র সম্পাদক মীর মসরুর জামান, ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার মনোয়ারা আক্তার রিফাত, এশিয়া এমসিসি, ক্রিশ্চিয়ান এইডের প্রোগ্রাম অ্যান্ড পার্টনারশিপ লিড প্রিন্স সুমন বাড়ই, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী এবং আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।
লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের মানুষ ও দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন অনিন্দিতা আফরা বাবুনি ও সংকর সরকার। সাংবাদিকতা ফেলোশিপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন যশোরের দৈনিক গ্রামের কাগজের সোশ্যাল মিডিয়া এডিটর স্বপ্না দেবনাথ এবং বাংলা ট্রিবিউনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সরদার। এছাড়া বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও দাবিগুলো তুলে ধরেন। দ্বিতীয় পর্ব সঞ্চালনা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শেখ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারবিষয়ক সাংবাদিকতা ফেলোশিপ সফলভাবে সম্পন্ন করায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ১৬ জন সাংবাদিককে সনদ ও স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অধিকারবিষয়ক সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় ক্রিশ্চিয়ান এইড, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট এবং স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে Expanding Civic Space through Active CSO Participation and Strengthened Governance System in Bangladesh (ECSAP) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক নারী, লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।
MANUSHER JONNO FOUNDATION পেজ থেকে

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *