স্পোর্টস ডেস্ক :

তিনটি বিশ্বকাপ, দুটি ফাইনাল, একটি শিরোপা আর মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে ১৯ গোল। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পের পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন তাকে শুধু বিশ্বকাপের খেলোয়াড় বলা হয়। চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন এই ‘রাজা’। সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ছোঁয়ার খুব কাছেই পৌঁছে গেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক।

এমবাপ্পেকে নিয়ে আলোচনা হয়, জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি অপ্রতিরোধ্য নেতা হলেও ক্লাব ফুটবলে কেন সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে এমবাপ্পে শুধু দলের অধিনায়কই নন, পুরো ফ্রান্স দলের প্রাণভোমরাও। মাঠের কৌশল, আক্রমণের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নেতৃত্ব, সবকিছুর কেন্দ্রেই থাকেন তিনি। পুরো দল তার শক্তিকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই খেলে। ফলে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের সেরাটা মেলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাস দুটোই পান এমবাপ্পে।

এদিকে ২০২৪ সালের জুনে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়ার পর থেকেই প্রত্যাশার বিশাল চাপের মধ্যে আছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। সাম্প্রতিক ট্রফিহীন মৌসুম এবং হতাশাজনক পারফরম্যান্সের বড় দায়ও অনেক সমর্থক তার কাঁধেই চাপিয়েছেন। এমনকি তাকে দল থেকে বিদায় করার দাবিতে অনলাইন পিটিশনেও সই করেছেন অসংখ্য সমর্থক।

স্পেনভিত্তিক রয়টার্সের ক্রীড়া সাংবাদিক ফার্নান্দো কালাসের মতে, পার্থক্যটা মূলত মানসিকতায়। তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যানের হিসেবে রিয়ালে এমবাপ্পের মৌসুম মোটেও খারাপ নয়। কিন্তু ফ্রান্সের হয়ে তিনি মাঠে যে আত্মত্যাগ ও নিবেদন দেখান, ক্লাবের জার্সিতে সেটি সবসময় দেখা যায় না। অনেক সমর্থকের ধারণা, তিনি কখনো কখনো দলের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেন।’

মজার বিষয় হলো, সমালোচনা থাকলেও পরিসংখ্যান এমবাপ্পের বিরুদ্ধে কথা বলে না। গোল, অ্যাসিস্ট, গতি, সফল ড্রিবল, স্প্রিন্ট কিংবা প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ প্রায় সব সূচকেই ক্লাব ও জাতীয় দলে তার পারফরম্যান্স কাছাকাছি।

তাহলে পার্থক্যটা কোথায়? বিশ্লেষকদের মতে, সেটি মূলত পরিবেশ, দায়িত্ববোধ এবং মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যে। ফ্রান্স দলে এমবাপ্পে নিজেকে স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন, আর সেই আত্মবিশ্বাসই তাকে আরও ভয়ংকর করে তোলে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *