মেক্সিকোকে হারিয়ে জয়ের উল্লাস করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে হাতে চোট পেয়েছেন ব্রিটিশ ফুটবলার জর্ডন হেন্ডারসন। তার কব্জিতে আঘাত লেগেছে বলে জনা গেছে। এই ধরনের আঘাত কেবল খেলোয়াড়দের নয়, রোজের কাজে যে কারও যখন-তখন লাগতে পারে। এমন হলে কী করণীয়? স্পোর্টস ডেস্ক : মেক্সিকোকে হারিয়ে জয়ের উল্লাস করতে গিয়ে বিপদ ডেকে এনেছেন ব্রিটিশ ফুটবলার জর্ডন হেন্ডারসন। মেক্সিকোর আজ়তেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোকে টান টান ম্যাচে হারিয়ে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচ শেষে সকলের সঙ্গে মিলে উল্লাস করার সময়ে পা পিছলে পড়ে যান হেন্ডারসন। কব্জিতে জোরে আঘাত লাগে তার। হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে হেন্ডারসনকে। মাঠে ফুটবলারদের পায়ে চোট যেমন লাগে, তেমনই আচমকা পড়ে গিয়ে কব্জিতে মোচড় লাগার ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়। আর এমন সমস্যা শুধু খেলোয়ড়দের নয়, যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। তাই কী ভাবে সতর্ক থাকবেন, তা জেনে রাখা জরুরি।আনন্দবাজার ডট কমআনন্দবাজার ডট কম জর্ডন যে ভাবে পড়ে গিয়েছেন তাতে তার শরীরের পুরো ভর হাতের উপর গিয়ে পড়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। এমন হলে কব্জির লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে বা পেশিতে তীব্র টান লাগতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘রিস্ট স্প্রেন’। আঘাত গুরুতর হলে কব্জির সূক্ষ্ম হাড়ে চিড় ধরতে পারে বা হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। সে ক্ষেত্রে কব্জি মারাত্মক ভাবে ফুলে যায়, তীব্র যন্ত্রণা হয় এবং হাত নাড়াচাড়া করতে বা কোনও কিছু ধরতে কষ্ট হয়। এমন চোট কী ভাবে লাগতে পারে? রোজের কাজেও এমন আঘাত লাগতে পারে যখন-তখন। তা ছাড়া বেশ কিছু অভ্যাসের কারণেও ‘রিস্ট স্প্রেন’ হতে পারে। ১) বাথরুমে পা পিছলে পড়লে বা সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়ে পড়ে গেলে অথবা রাস্তায় হোঁচট খেলে স্বাভাবিক প্রবৃত্তিতেই হাতের উপর ভর দিয়ে শরীরের ভারসাম্য রাখার চেষ্টা হয়। এতে পুরো শরীরের ভর গিয়ে পড়ে কব্জির উপরে, সে থেকে কব্জির লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে বা হাড়ে চিড় ধরতে পারে। ২)ভুল ভঙ্গিমায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাপটপে টাইপ করে যাওয়া বা একটানা মাউস ধরে কাজ করার কারণেও রিস্ট স্প্রেন হতে পারে। আবার হাতে দীর্ঘ সময় মোবাইল ধরে রাখলেও কব্জির যন্ত্রণা ভোগাতে পারে। ৩) জিম করার সময় ভুল ভঙ্গিতে ডাম্বেল তুললে বা ভারী ওজন তুলতে গিয়ে কব্জির লিগামেন্ট ছিঁড়তে পারে। ঘরের কাজে ভারী জিনিস তোলার সময়েও এমন হতে পারে। কব্জির আঘাত থেকে বাঁচার উপায় শরীরের ভারসাম্য হারাচ্ছে বা পড়ে যাবেন বুঝতে পারলে হাত বাড়িয়ে হাতের তালুর উপর ভর না দিয়ে শরীরকে কিছুটা গুটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। এতে আঘাতটি কেবল কব্জিতে লাগবে না। ডেস্কে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন যারা, তারা কিবোর্ড ও মাউস এমন উচ্চতায় রাখুন, যাতে কব্জি সোজা থাকে। প্রয়োজনে ‘রিস্ট রেস্ট’ প্যাড ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর হাত ও আঙুলের স্ট্রেচিং করুন। কব্জির চারপাশের পেশি ও লিগামেন্ট শক্ত করতে নিয়মিত কিছু হালকা ব্যায়াম করা উচিত। ‘আর্ম ফিগার এইট’ ব্যায়ামটি করতে পারেন। পদ্ধতি সহজ। পিঠ টানটান করে সোজা হয়ে বসতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভবিক থাকবে। এ বার দুই হাত সামনের দিকে ছড়িয়ে আঙুলগুলি জড়ো করে রাখুন। দুই হাতের আঙুল পরস্পরের সঙ্গে জোড়া রাখতে হবে। সেই অবস্থাতেই অর্থাৎ, হাত মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় রেখে বাঁ দিক থেকে ডান দিকে হাত ঘুরিয়ে ইংরেজি ৮ সংখ্যাটি বা বাংলা ৪ সংখ্যাটি লিখতে হবে। ৫-৭ বার ঘোরাতে হবে। ভারী ওজন তোলার সময় বা ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলার সময় কব্জির সুরক্ষায় ‘রিস্ট ব্যান্ড’ বা ‘রিস্ট সাপোর্ট’ ব্যবহার করুন। এতে কব্জিতে সহজে আঘাত লাগবে না। কব্জিতে কোনও ভাবে আঘাত লাগলে সেখানে ১০-১৫ মিনিট বরফের সেঁক দিন। এর পর ব্যান্ডেজ দিয়ে হালকা করে কব্জি বেঁধে রাখুন। হাতটি বালিশের উপর বা উঁচুতে রাখতে পারলে ভাল হয়। যন্ত্রণা তীব্র হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে দেখিয়ে নেয়া জরুরি। Post Views: 37 Post navigation সমালোচনার তোপে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারি