ব্রাশ দিয়েই ধরা পড়বে মুখের ক্যানসার? কোনও রকম কাটাছেঁড়া ছাড়াই যন্ত্রণাহীন পদ্ধতিতে মুখগহ্বরের ক্যানসার সনাক্ত করার পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। নিউটার্ন ডেস্ক : ‘ওরাল ক্যানসার’ বা মুখের ক্যানসার সবচেয়ে বিপজ্জনক। সমস্ত ধরনের ক্যানসারের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হন মুখের ক্যানসারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ সনাক্তকরণ করা গেলে রোগীকে সুস্থ করে তোলা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়। তবে তা ধরা পড়তেই বিস্তর সময় লেগে যায়। মুখের ভিতরের সাধারণ ঘা, আলসার না ক্যানসার— তা চিহ্নিত করা সহজ নয়। মুখের ভিতর থেকে নমুনা নিয়ে বা বায়োপসি করে ক্যানসার চিহ্নিত করার পদ্ধতি জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তবে ব্রাশ টেস্টে তা হবে খুব তাড়াতাড়ি। যন্ত্রণাহীন পদ্ধতিতে মুখগহ্বরের ক্যানসার ধরতে কেবল বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি ব্রাশকেই কাজে লাগাচ্ছেন গবেষকরা।আনন্দবাজার ডট কম লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা তৈরি করেছেন এক বিশেষ প্রকারের ব্রাশ। সেটি দিয়েই মুখের ভিতরের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ব্রাশটি নরম ও সেটি মুখের ভিতর চালনা করলে রোগীর যন্ত্রণাও হবে না। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, বায়োপসি বা কাটাছেঁড়া না করেই মুখের ভিতরের ক্ষতস্থান থেকে নমুনা তুলে নেয়া যাবে। মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে তা পরীক্ষা করে ক্যানসার কোষের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা-ও বোঝা যাবে। প্রতি বছর বিশ্বে মুখ ও গলা-ঘাড়ের ক্যানসারে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হন। মৃত্যু হয় অন্তত দু’লক্ষ মানুষের। মুখগহ্বরের মধ্যে ঠোঁট, জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ি, গলা, চোয়াল, লালাগ্রন্থি-সহ যে কোনও জায়গাতেই কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি থেকে ক্যানসার হতে পারে। মুখগহ্বরের ক্যানসারের জন্য দায়ী মূলত তামাকজাত পদার্থ। বিড়ি, সিগারেট, চুরুট, খৈনি— ব্যবহারের জন্যই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই রোগটি হয়। এ ছাড়া মদ, গুটখা সুপারি, পানমশলা অত্যধিক সেবনেও এই রোগ হতে পারে। যারা মদ্যপান এবং ধূমপান— দু’টিই এক সঙ্গে করেন, তাদের মুখের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। আরও কিছু কারণ রয়েছে। যেমন, ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ না করা, মুখের ভিতর পরিষ্কার না করা। আবার অনেক সময়ে দাঁতের ক্ষয় বা দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণের কারণেও ক্যানসার হতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশেষ ভাবে তৈরি ব্রাশ দিয়ে মুখের ক্ষতের উপরিভাগ থেকে নিখুঁত ভাবে কোষগুলি সংগ্রহ করে নেয়া যায়। এই কোষগুলি বিভাজিত হচ্ছে কি না, তা ধরা পড়ে সহজেই। বায়োপসিতে তা হয় না। বায়োপসির ক্ষেত্রে ক্ষতস্থানের মাংসপিণ্ডের একটি অংশ কেটে নেয়া হয়, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, সঠিক পদ্ধতিতে না করলে তা মাড়ি বা মুখের ভিতরের হাড় ও দাঁতের ক্ষতি করতে পারে। ব্রাশ সেখানে অনেকটাই নিরাপদ। Post Views: 30 Post navigation মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব