স্পোর্টস ডেস্ক :

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের মহারণের আগে চলছে কথার লড়াই। এমনকি রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরাও তাতে জড়িয়ে পড়েছেন। ফ্রান্স জাতীয় দল নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছেন স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়।

২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাহয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল দিবেত-এ এক কলামে লেখেন, ‘বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা (ফ্রান্স) এক নম্বরে। তাদের দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড়ও রয়েছে। তবে তাদের দলে কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই, তারপরও তারা দারুণ খেলছে।’

এই মন্তব্যের পর ফ্রান্সের একাধিক শীর্ষ রাজনীবিদ তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

রোববার (১২ জুলাই) ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ মারিয়ানো রাহয়ের মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন। ফরাসি টেলিভিশন বিএফএম টিভিতে রাহয়ের মন্তব্য তুলে ধরা হলে নুনেজ বলেন, ‘ফ্রান্স মোটেও এমন দেশ নয়। ফ্রান্স বৈচিত্র্যের দেশ, যেখানে প্রত্যেকে নিজের জায়গা খুঁজে নিতে এবং বিকশিত হতে পারে।’

রাহয়ের মন্তব্যের সমালোচনা হয়েছে স্পেনেও। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে তাকে ‘ফ্রাঙ্কো-পরবর্তী যুগের এক নির্বোধ’ বলে উল্লেখ করেন এবং নিজেকে ‘মধ্যপন্থি’ হিসেবে উপস্থাপনের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

এছাড়া স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ রাহয়ের এই মন্তব্যকে ‘জেনোফোবিক’ বা ‘বিদেশি বিদ্বেষী’ বলেছেন। এই সমাজতান্ত্রিক নেতা এক্স-এ লিখেছেন, ‘এমন কিছু মানুষ আছেন যারা এখনো পদবি, জন্মস্থান বা গায়ের রঙ দিয়ে কোনো দেশের প্রতি নাগরিকত্ব পরিমাপ করেন। অন্যেরা এটিকে পরিমাপ করেন একটি দেশের প্রতি তাদের টান ও দেশের জন্য অবদান রাখার ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে।’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *