‘গুণ্ডাদমন আইন’কে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে। আন্তর্জাতিক ডেস্ক :পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং সংগঠিত অপরাধ রুখতে সোমবারই কার্যকর হয়েছে ‘গুন্ডাদমন আইন’। সেই আইনের বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তার বক্তব্য, এই ‘গুণ্ডাদমন আইন’ মানুষের অধিকার খর্ব করতে পারে। পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তার’ আশঙ্কাও করেছেন তিনি।আনন্দবাজার ডট কম ‘গুণ্ডাদমন আইন’কে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আইনজীবী সব্যসাচীর বক্তব্য, এই আইন কার্যকর হলে পুলিশ যে কোনও সময় যাকে ইচ্ছা ফাঁসিয়ে দিতে পারে। তাকে এ বিষয়ে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে হাই কোর্ট। তার পরেই জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। চলতি সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। ‘গুণ্ডাদমন আইনের’ পোশাকি নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টিসোশাল অ্যাক্টিভিটিজ় অ্যাক্ট, ২০২৬’। নতুন আইন অনুযায়ী, প্রশাসন যদি মনে করে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন কিংবা কোনও বড়সড় সমাজবিরোধী অপরাধের চক্রান্ত করছেন, তবে অপরাধ ঘটানোর আগেই তাকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ ১২ মাস অর্থাৎ ১ বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। আইনে যুক্ত হয়েছে ‘এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার’ বা এলাকাছাড়া করার ক্ষমতা। জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকেরা যদি নিশ্চিত হন যে, কোনও দাগী অপরাধী বা গুণ্ডা নির্দিষ্ট এলাকায় থাকলে অশান্তি ছড়াতে পারে, তবে সেই অপরাধীকে অনধিক এক বছরের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বা সমগ্র জেলা থেকে ‘বহিষ্কার’-এর নির্দেশ দিতে পারবেন। ‘গুণ্ডাদমন আইন’-এ জামিন-অযোগ্য ধারা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সংস্থানও রাখা হয়েছে। আইনটিকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে এর আওতাধীন সমস্ত অপরাধকে সম্পূর্ণ ভাবে জামিন-অযোগ্য করা হয়েছে। এর ফলে পুলিশ কোনও পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে। কোনও ব্যক্তি সমাজবিরোধী বা সিন্ডিকেটের মতো সংগঠিত অপরাধের মাধ্যমে যদি কোনও সম্পত্তি বা টাকা উপার্জন করে, তবে সেই সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার আইনি অধিকারও দেয়া হয়েছে প্রশাসনকে। সরকারি এবং বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের প্রবণতা রুখতেও কড়া বিধান রয়েছে নয়া আইনে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই নয়া আইনকে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’-এর (এনএসএ) সমকক্ষ বলে মনে করছেন। অনেকের মতে, এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে পুলিশ এবং প্রশাসনের ক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। সোমবার এই আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেন, এটার প্রয়োজন ছিল। শুভেন্দু বলেন, ‘কমিউনিস্ট হার্মাদ এবং তৃণমূলী গুণ্ডাদের জব্দ’ করার জন্যই এই আইনের প্রয়োজন ছিল। Post Views: 37 Post navigation হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলা