স্পোর্টস ডেস্ক :বিশ্বকাপ এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। রোববার নিউইয়র্কে ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের মধ্যে একটি দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মুকুট পরবে।কিন্তু সেটি কে হবে? অনেকেই যেমনটা বলছেন, মঙ্গলবার সেমিফাইনালে ফ্রান্স বনাম স্পেন ম্যাচটিই কি প্রকৃত ফাইনাল? আর্জেন্টিনা কি তৃতীয় দল হিসেবে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখতে পারবে? ইংল্যান্ড কি ৬০ বছরের আক্ষেপের অবসান ঘটাবে?বিবিসি কী হতে পারে, ধারণা পেতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাংবাদিক ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি স্পোর্টস। আর্জেন্টিনা – সেরা পরিকল্পনা : অন্য সবার চেয়ে কম সম্পদ নিয়ে বেশি কিছু করা। ইংল্যান্ড – ফর্মে থাকা দুই বিশ্বমানের খেলোয়াড়। চার সেমিফাইনালিস্টেরই টুর্নামেন্ট জেতার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু আছে। স্পেন যদি ফ্রান্সের কাছ থেকে বল কেড়ে নিতে পারে এবং তাদের পাল্টা আক্রমণ থামাতে পারে – পাশাপাশি যদি তারা এখন পর্যন্ত যেভাবে ছিল তার চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে – তবে তাদের ফাইনালে যাওয়ার খুব ভালো সুযোগ আছে। তবে এজন্য তাদের নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হবে, সঙ্গে প্রয়োজন হবে লামিন ইয়ামালের সেরা ছন্দ। আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ঘটনাবিহীন রাখার চেষ্টা করবে, তারপর লিওনেল মেসি বা হুলিয়ান আলভারেজের কোনো উজ্জ্বল মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকবে। কিন্তু তারা আগুন নিয়ে খেলছে। ইংল্যান্ড এখনও নিজেদের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে, তবে তাদের ভালো খেলোয়াড় আছে, আছে দুই বিশ্বমানের তারকা। স্পেন বনাম ইংল্যান্ড ফাইনাল অসাধারণ হবে। এক অর্থে সেটি আমার জন্য জিত-জিত পরিস্থিতি হবে, তবে আমি চাই ইংল্যান্ড শিগগিরই একটি বিশ্বকাপ জিতুক। এটি সেই গ্রীষ্ম হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্প্যানিশ সমর্থকরা: লিওনেল: ফ্রান্স কঠিন প্রতিপক্ষ হবে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা তাদের হারাতে পারব এবং যদি তা পারি, তাহলে আমাদের সম্ভাবনা অনেক শক্তিশালী। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই জায়গাতেই আমরা শক্তিশালী। একমাত্র নেতিবাচক বিষয় হলো, পেদ্রি এখনও এই সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেনি। জ্যাক: আর্জেন্টিনা শক্তিশালী দেখাচ্ছে, তবে ইংল্যান্ডকে বাদ দেয়া যায় না। তাদের দলে হ্যারি কেইন আছে, যে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন স্ট্রাইকারদের একজন। মিশেল: স্পেন টুর্নামেন্ট জিতবে, এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। ফ্রান্সের বিপক্ষে আমাদের কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না, কিন্তু আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করব এবং তাদের হারাব। ওই ম্যাচের বিজয়ীরাই টুর্নামেন্ট জিতবে। আমি খুব চাইতাম বলতে যে ইংল্যান্ড, কিন্তু এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যা দেখেছি, তার ভিত্তিতে আমার মনে হয় ২০২২ সালে কাতারে আর্জেন্টিনার কাছে হারার ক্ষত মুছে এবার ফ্রান্সই ট্রফি জিতবে। আমার মতে, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠবে। কিন্তু ফ্রান্সের আক্রমণভাগের অসাধারণ প্রতিভাকে অতিক্রম করে অন্য কাউকে দেখা খুব কঠিন। কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন এক মিশনে নেমেছেন, আর তাকে সমর্থন দিচ্ছেন উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে এবং ডিজিরে দুয়ের মতো খেলোয়াড়রা। এর আগে আমরা ব্র্যাডলি বারকোলা ও রায়ান শেরকির কথাও বলিনি, যারা মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনাল জয়ের সময় বেঞ্চে ছিলেন। তাই আমি ইংল্যান্ড বনাম ফ্রান্স ফাইনাল দেখছি, যেখানে দিদিয়ে দেশম বিশ্বকাপ জয় দিয়ে নিজের বিদায় সম্পন্ন করবেন। তবে আমার ভবিষ্যদ্বাণী আগে ভুল প্রমাণিত হয়েছে, তাই থ্রি লায়ন্সের প্রধান কোচ থমাস টুখেল এবং তার খেলোয়াড়দের জন্য এখনও অনেক আশার জায়গা আছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইংল্যান্ডের সমর্থকরা পল: ট্রফি ঘরে ফিরছে। সত্যি বলছি। কেন নয়? আমরা জানি ইংল্যান্ড দুর্দান্ত খেলেনি, কিন্তু আমাদের কাছে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন আছে এবং আমার মনে হয় সেটাই যথেষ্ট হবে। আর্জেন্টিনা আমাদের থামাতে পারবে বলে মনে হয় না, এরপর ফ্রান্স বা স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল হবে ৫০-৫০। ডিন: আমি এতটা আত্মবিশ্বাসী হতে চাই, কিন্তু পারছি না। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মনে হয়েছে আমরা চোট ও ফিটনেস সমস্যায় ভুগছিলাম এবং এটি এখন প্রভাব ফেলছে। আমার শুধু মনে হচ্ছে লিওনেল মেসি আমাদের আনন্দ মাটি করে দেবেন। কেইন: ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতবে। আমরা বাকিরা কেবল অংশগ্রহণকারী। ইংল্যান্ড কি আর্জেন্টিনাকে হারাবে? বিষয়টি খুবই কাছাকাছি, কিন্তু তারা ফ্রান্সকে হারাতে পারবে না। ‘অনেক আত্মবিশ্বাস’ – ফ্রান্সের দৃষ্টিভঙ্গিআব্দুল-করিম, টিভিফাইভ ফরাসি সাংবাদিক: স্পেন এবং বিশেষ করে লামিন ইয়ামালের কাছ থেকে কী আশা করা উচিত আমরা জানি না, কারণ প্রতিযোগিতার শুরুতে তিনি কিছুটা হতাশ করেছেন। তবে তিনি এখনও ফ্রান্সের বিপক্ষে জেগে উঠতে পারেন। কিন্তু ফ্রান্সের মধ্যে অনেক আত্মবিশ্বাস রয়েছে। এবার দলটিকে ঘিরে কোনো বিতর্ক বা মতবিরোধ নেই। আগের বড় টুর্নামেন্টগুলোর তুলনায় এবার সবকিছু বেশ মসৃণভাবে চলছে। এই সেমিফাইনাল দেখতে পুরো ফ্রান্স থেমে যাবে। মঙ্গলবার বাস্তিল দিবস এবং কিছু শহরে আতশবাজির অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খেলা শেষ হওয়ার পর আতশবাজি হবে, যখন পুরো ফ্রান্স আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার উদযাপনের আশা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ফরাসি সমর্থকরা: রাচেল: এটি আমার দেখা সেরা ফ্রান্স দল। আমরা বিশ্বকাপ জেতা উচিত কারণ আমরা সেরা, তবে আমরা জানি বিষয়টি নিশ্চিত নয়। স্পেন বিপজ্জনক এবং আমি ফাইনালে ইংল্যান্ডকে প্রত্যাশা করি। জেরার্ড: অবশ্যই আমরা বিশ্বকাপ জিতব। আমাদের দেখেননি? অনেক ব্যবধানে আমরাই সেরা। সান্তি সিওলা, আর্জেন্টিনার সাংবাদিক আমার মনে হয় শিরোপা জয়ের জন্য ফ্রান্সই সেরা দল। আক্রমণভাগে তাদের এমন একটি দল আছে যা সবাইকে ভয় ধরিয়ে দেয়, এবং টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে তারা রক্ষণেও আরও উন্নতি করেছে। অবশ্যই আমি আশা করি আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হবে। তারা সহজেই তা করতে পারে, কারণ তারা হৃদয় দিয়ে খেলে। কিন্তু ফুটবলের বিচারে এই মুহূর্তে ফ্রান্সকে আমি অন্য সবার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে দেখি। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকরা: এমা: আমরা আত্মবিশ্বাসী। সহজ হবে না, তবে ইংল্যান্ডও জানে তাদের জন্য এটি সহজ হবে না। শেষ কবে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল মনে নেই, আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। তবে আমি জানি ইংল্যান্ড মেসির বিপক্ষে খেলেনি, আর সে আমাদের প্রতিভা। আমার মনে হয় আমরা টাইব্রেকারে জিতব, কিন্তু ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হারব। হাভিয়ের: অবশ্যই আমরা জিতব। আমাদের কঠিন ম্যাচ ছিল, কিন্তু আমরা উত্তীর্ণ হয়েছি। আমরা ইংল্যান্ডকে হারাতে পারি এবং যদি ফাইনালে উঠি, আমরা হারব না। ব্রুনো: পূর্বাভাস দেয়া অসম্ভব। ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে; স্পেন ও ফ্রান্সকে সেরা মনে হচ্ছে। কিন্তু আমি বলব আর্জেন্টিনাই জিতবে। Article InformationAuthor,অ্যান্ডি ক্রায়ারRole,বিবিসি স্পোর্টের সিনিয়র সাংবাদিক Post Views: 34 Post navigation বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশনের দিনাজপুর জেলা শাখার ফ্রান্স – স্পেন খেলা চলছে