পরীক্ষায় প্রতারণা আটকাতে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ছাত্রছাত্রীদের জানিয়েছেন মোদী। সেই সঙ্গে বলেছেন পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে চান তারা। সেই সংস্কারের দায়িত্ব কাদের কাঁধে বর্তাচ্ছে? আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভবিষ্যতে যাতে নিট-এর প্রশ্নফাঁসের মতো দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য পরীক্ষা-সংস্কারের টাস্কফোর্সে বাছাই করা সদস্য নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। প্যানেলে যেমন তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রের ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানী এমনকি প্রাক্তন গোয়েন্দাও!আনন্দবাজার ডট কম মোট ছ’জন সদস্যের ওই টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে রয়েছেন নন্দন নীলেকণি। যার উপর এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ভরসা করেছিল দেশবাসীর ডিজিটাল পরিচয়পত্র আধার কার্ড তৈরির প্রযুক্তির ব্যাপারে। তিনি এবং তার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যই আগামী দিনে দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন এবং ধরিয়ে দেবেন ভুল, কাজ করবেন পরীক্ষা বিষয়ে সরকারের পরামর্শদাতা হিসেবে। নিট-সহ দেশে সারা বছর, নানা ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেয়া হয়। সেই সব পরীক্ষায় প্রতারণা আটকাতে ইতিমধ্যেই আরও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বলে ছাত্রছাত্রীদের জানিয়েছেন মোদী। সেই সঙ্গে বলেছেন পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে চান তারা। সেই সংস্কারের দায়িত্ব কাদের কাঁধে বর্তাচ্ছে? ১। নন্দন নীলেকণি প্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিস-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা নন্দন। তবে আইআইটি বম্বের ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এই ছাত্রকে আধার কার্ডের রূপকারও বলা হয়। ৭১ বছর বয়সি নন্দনই নেতৃত্ব দেবেন টাস্কফোর্সের। যেহেতু কেন্দ্র পরীক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষার জন্য নানা রকমের প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজতে বলেছেন, তাই নন্দনের প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞান এ ব্যাপারে টাস্কফোর্সকে সাহায্য করবে বলে অনুমান। ২। এস সোমনাথ আইআইটি মাদ্রাজের ছাত্র এস সোমনাথ ছিলেন ইসরোর চেয়ারম্যান। তার নেতৃত্বেই সফল হয় চাঁদের মাটিতে অবতরণ করে ভারতের চন্দ্রযান ৩। কেরলের আলাপ্পুজায় জন্ম। বয়স ৬৩। ৪০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই মহাকাশ বিজ্ঞানী কেন্দ্রের ডিপার্টমেন্ট অফ স্পেসের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ২০২৫ সাল পর্যন্ত। ৩। তপন ডেকা ২৬/১১ মুম্বই হামলা পরবর্তী সন্ত্রাস দমন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তপন ডেকা। পরে তিনি জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে নিরাপত্তা অভিযান এবং ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে অভিযানেও জরুরি ভূমিকা পালন করেন। জন্ম অসমে। বয়স ৬৩। হিমাচল প্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার তপন ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর দায়িত্বে ছিলেন। কেন্দ্র ওই গোয়েন্দার কাজে এতটাই খুশি ছিল যে তার পদের মেয়াদ দু’বার বৃদ্ধি করা হয়। ৪। ভি কামাকোটি আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা কামাকোটি নিজেও আইআইটি মাদ্রাজেরই ছাত্র। তথ্য নিরাপত্তা বিষয়ক এই বিজ্ঞানী সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে দক্ষ। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য। এছাড়া বাণিজ্য এবং শিল্পমন্ত্রকের এআই টাস্কফোর্সেরও নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। বয়স ৫৮। ইনিও দক্ষিণ ভারতের। তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। ৫। অনিতা করভল তিনি গুজরাত ক্যাডারের ১৯৮৮ সালের ব্যাচের আইএএস কর্তা। ৩৬ বছর আমলা হিসেবে কাজ করেছেন। তার কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে অন্যতম ছিল স্কুল শিক্ষা। এ ছাড়া তিনি সিবিএসই প্রধান পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেন্দ্রের স্কুলশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। ৬। অমৃত লাল মীনা রাজস্থানে জন্ম, তবে কর্ম মূলত বিহারে। ১৯৮৯ সালের ব্যাচের বিহার ক্যাডারের আইএএস অফিসার মীনা বিহার সরকারের মুখ্যসচিব হিসেবে কাজ করেছেন। কয়লার মন্ত্রীও ছিলেন। ৩৬ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ২৫ বছরই বিহারে। ১১ বছর তিনি কাজ করেছেন কেন্দ্রের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে। Post Views: 25 Post navigation আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই ইরানে হামলা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প, দাবি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের