গায়ের রং ফরসা করার চিকিৎসা কি আছে? অনেক তারকাই তো তা করিয়েছেন বলে শোনা যায়। কী কী সে সব থেরাপি? আদৌ কি নিরাপদ?

নিউটার্ন ডেস্ক :

কালোকে কালো বললে কী সমস্যা? সৌন্দর্যের সংজ্ঞাকে গায়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়ার সেই মনোবৃত্তি থেকে সমাজ বেরোতে পারেনি। ফরসা রংকে আজও কোথাও কোথাও একটি গুণ বলে ধরে নেয়া হয়। কালো রং যেন পিছিয়ে থাকার প্রতীক। সামাজিক এই নীরব অথচ কটাক্ষযুক্ত নজরের কারণে মনের গহীনে রং নিয়ে খুঁতখুঁতানিটা রয়ে গিয়েছে অনেকের মধ্যেই।

ফরসা হতেই হবে! এই ইচ্ছা এখনও রয়েছে এ দেশের নানা জনের মধ্যে। আর সেই ইচ্ছা পূরণ করার জন্য হয়েছে একের পর এর থেরাপির ব্যবস্থা। সমাজে যত চেহারা নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, ততই বাড়ছে সে সব থেরাপির রমরমা।

বহু তারকাই সে সব থেরাপি করিয়ে ত্বকের রং বদলে ফেলেছেন। শ্যামলা রঙে ভোল বদলে গমরঙা ত্বকে দেখা দিয়েছেন, এমন তারকার সংখ্যা কম নেই। আর তা কোনও জাদুমন্ত্রে হয়নি। এর নেপথ্যে রয়েছে নানা রকম প্রসাধনী ও থেরাপির চমক। সে সব খবর যত ছড়াচ্ছে, অনেকেরই তারকাদের মতো ইচ্ছা হচ্ছে গায়ের রং বদলানোর। কিন্তু এই সব থেরাপির বহু কুফল আছে।

গায়ের রং শ্যামবর্ণ বা কালো মানে ত্বকে ‘মেলানিন’ নামে রঞ্জক পদার্থ, যা ত্বকের বর্ণ নির্ধারণ করে—তা কিছু বেশি রয়েছে। আর এই ‘মেলানিন’ পৃথিবীর সমস্ত রৌদ্রপ্লাবিত অঞ্চলের মানুষজনের ত্বকে স্বাভাবিক সুরক্ষা আবরণের কাজ করে। যে কারণেই শ্যামবর্ণা ত্বকের মানুষদের ত্বকের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি শ্বেতাঙ্গদের থেকে অনেক কম। তবে তাতে কি আর চিঁড়ে ভেজে! সৌন্দর্যচর্চার দুনিয়ায় অসুখবিসুখ নিয়ে ভাবার সময় নেই। সেখানে কালো-ফরসার সমীকরণ গোলমেলে। ভারতীয় মহাকাব্যে কৃষ্ণবর্ণা দ্রৌপদীকে নায়িকা বানিয়েছিলেন ব্যাসদেব, কিন্তু এখন শ্যামাঙ্গী সুন্দরীরা গায়ের রং ফরসা করার দৌড়ে শামিল হয়েছেন। মহাকবি কালিদাসও ‘তন্বী শ্যামা শিখরিদশনা’ নারীর সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছেন। কিন্তু পরবর্তীকালে, ভারতীয়দের মধ্যে গৌরবর্ণাদের সৌন্দর্যবিচারে এগিয়ে রাখার প্রবণতা তৈরি হয়। প্রশ্ন এই যে, সত্যিই কি কোনও ক্রিম শ্যামলবরণাকে গৌরাঙ্গী করে তুলতে পারে?আনন্দবাজার ডট কম

এই বিষয়ে ত্বকের চিকিৎসক অতুল তানেজা বলেন, ফরসা হওয়ার ক্রিম লিখে দিতে আবদার করেন অনেক মহিলাই। অথচ এমন কোনও ক্রিম নেই, যা মেখে প্রকৃতই ফরসা রং ধরে রাখা যায়। গায়ের রং নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগেন, এমন মহিলার সংখ্যাও কম নেই। কমবয়সিরা কেবল নন, এই তালিকায় রয়েছেন মধ্যবয়সি গৃহবধূ ও কর্মরতারাও।

ত্বকের রং বদলানো কী করে সম্ভব?

ত্বকের রং ধরে রাখে যে মেলানিন, তার মাত্রা কমিয়ে বা বাড়িয়ে গাত্রবর্ণের খানিক বদল আনা সম্ভব, তবে এই প্রক্রিয়া চিরস্থায়ী নয়। এই বিষয়ে ত্বক চিকিৎসক কৌশিক লাহিড়ীর মত, ‘‘প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। চিকিৎসা বিজ্ঞানের লক্ষ্য সুস্থ স্বাভাবিক ত্বককে কৃত্রিম উপায়ে ফরসা করা নয়। বরং সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির প্রভাব, মেচেতার দাগ, পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি পিগমেন্টেশন, ট্যান, হরমোনজনিত নানা সমস্যা বা অন্যান্য কারণে হওয়া অতিরিক্ত কালচে দাগছোপ কমিয়ে ত্বকের স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনা। এটি করার জন্য অনেক রকম থেরাপি রয়েছে। তার কোনওটিতেই যে রাতারাতি ত্বকের রং বদলে যাবে, এমনটা বলা যায় না।’’

কী কী চিকিৎসা এখন হচ্ছে? সেগুলি কি নিরাপদ?

ট্রপিক্যাল ক্রিম ও সিরাম

ডিপিগমেন্টিং ক্রিমের ব্যবহার বেড়েছে। এগুলি মূলত পিগমেন্টেশন বা দাগছোপ দূর করার জন্য কাজে লাগে। কৌশিকবাবু জানাচ্ছেন, এই ধরনের ক্রিমে থাকে হাইড্রোকুইনোন, কোজ়িক অ্যাসিড, অ্যাজ়েলাইক অ্যাসিড, আরবুটিন, ভিটামিন সি, সিস্টিয়ামিন, ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড, রেটিনয়েড ইত্যাদি। এগুলি মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। ধীরে ধীরে দাগ কমাতে সাহায্য করে। তবে এই ক্রিম মেখে ফরসা হওয়া যাবে, সে কথা বলা যায় না। বরং বেশি ব্যবহারে ত্বক পাতলা হতে শুরু করে, স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে, জ্বালা ভাব বাড়ে এবং চর্মরোগের আশঙ্কাও বাড়ে।

কেমিক্যাল পিলিং

ত্বকের এই থেরাপিটি অনেকে করাচ্ছেন এখন। এই পদ্ধতিতে ত্বকের উপর গ্লাইকোলিক অ্যাসিড বা রেটিনয়িক অ্যাসিডের একটি প্রলেপ দেয়া হয়। এর ফলে ত্বকের উপরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি ধীরে ধীরে উঠে যায়। যে নতুন স্তর তৈরি হয়, তা আরও ঝকঝকে, মসৃণ দেখায়। তাতে সাধারণত দাগছোপ থাকে না। তবে এই প্রক্রিয়াটির অনেক খারাপ দিক আছে। লাগাতার করতে থাকলে ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে, ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে, এমনকি চর্মরোগের আশঙ্কাও বাড়বে।

লেজ়ার থেরাপি

স্কিন লিফটিং, অবাঞ্ছিত রোম দূর করা, জন্মদাগ দূর করা, স্ট্রেচমার্ক দূর করা, ত্বক মসৃণ করা, ট্যাটু মোছা, জড়ুল, মেচেতার দাগ থেকে নাছোড় আঁচিল দূর করা—ইত্যাদি কাজের জন্য এর প্রয়োগ করা হচ্ছে এখন। আলোকরশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে এই চিকিৎসাপদ্ধতি। লেজ়ার দিয়ে মূলত ত্বকে সরাসরি তাপ দেয়া হয়। লেজ়ারের রশ্মি ত্বকের উপরের স্তরকে ধ্বংস করে ফেলে। একই সঙ্গে এটি ত্বকের ভিতরের স্তরটিকে উত্তপ্ত করে তোলে। লেজ়ার থেরাপি করালে ত্বকের দাগছোপ উঠে অনেক বেশি মসৃণ ও ঝকঝকে দেখায়। আইপিএল লেজ়ার থেরাপিতে ত্বকের দাগছোপ তোলা, ত্বকের রঙে বদল আনাও সম্ভব বলে দাবি করা হয়, যাকে বলা হয় ‘ফোটোরিজুভেনেশন’, অর্থাৎ, ত্বকের ক্ষতিকর কোষগুলির মেরামত করা। িন্তু লেজ়ার কি সবক্ষেত্রে ভাল? কৌশিক বাবুর মতে, লেজ়ার থেরাপির অত্যধিক প্রয়োগে ত্বক বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। রোদে বেরোলে দাগছোপ পড়তে পারে। আবার ত্বকে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

গ্লুটাথিয়োন

গ্লুটাথিয়োন এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা দেহকোষেই তৈরি হয়। গ্লুটামেট, গ্লাইসিন ও সিস্টাইন নিয়ে গ্লুটাথিয়োন তৈরি হয়। অনেক সালোঁয় যে ‘স্কিন লাইটনিং ফেশিয়াল’ করা হয়, তাতে গ্লুটাথিয়োন প্রয়োগ করা হয়। তা ছাড়া ওষুধ, ইঞ্জেকশন, আইভি ড্রিপের মাধ্যমে বা কিছু ক্ষেত্রে ইনহেলারের মাধ্যমেও গ্লুটাথিয়োন নেয়া যেতে পারে। সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হল গ্লুটাথিয়োন ক্যাপসুল বা ইঞ্জেকশন। এর মাধ্যমেও শরীরে ঢোকানো হয় এই অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে এটি ব্যবহার করেন অনেকে। বেশি গ্লুটাথিয়োন নিলেই যে ত্বক আরও জেল্লাদার, সুন্দর হবে, এমন নয়। দীর্ঘকাল ধরে উচ্চ মাত্রায় গ্লুটাথিয়োন নিলে হার্ট, কিডনি, লিভার অচল হয়ে পড়তে পারে।

গ্লুটাথিয়োন ইঞ্জেকশনের পাশাপাশি খাওয়ার ওষুধ, মাখার ক্রিম এমনকি ইনহেলারও আছে। এগুলি সকলের জন্য নিরাপদ নয়। যাঁর রক্তচাপ বেশি বা লিভারের রোগ আছে এবং সে জন্য ওষুধ খেতে হয়, তিনি যদি ঘন ঘন গ্লুটাথিয়োন ওষুধ বা ইঞ্জেকশন নেন তা হলে ওষুধের ডোজ় নষ্ট হয়ে যাবে। রক্তচাপ বা লিভারের ওষুধের সঙ্গে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রক্তে টক্সিন জমা হতে থাকবে যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

রিজেনারেটিভ থেরাপি

রিজেনারেটিভ থেরাপি করা হয় বুড়িয়ে যাওয়া বা মৃতপ্রায় কোষকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলার জন্য। এই থেরাপির মূল লক্ষ্যই হল ত্বকে কোলাজেনের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। রিজেনারেটিভ থেরাপির একটি হল প্লেটলেট-রিচ প্লাজ়মা থেরাপি (পিআরপি)। প্রথমে শরীর থেকে রক্ত নিয়ে তা থেকে রক্তকোষ ও রক্তরস (প্লাজ়‌মা) আলাদা করা হয়। প্লাজ়মার মধ্যে যে পরতটা উপরে থাকে, তাতে অনেক রকম গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে। এই অংশটা অণুচক্রিকা বা প্লেটলেটে পরিপূর্ণ। এই গ্রোথ ফ্যাক্টরগুলিই ত্বকের ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। প্লাজ়মা থেকে ওই পরতটা তুলে নিয়ে তা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ত্বকে প্রয়োগ করা হয়। তবে এই থেরাপি বেশি করানোও ঠিক নয়। ত্বকের কোনও গভীর ক্ষত মেরামতের জন্য চিকিৎসকেরা এর প্রয়োগ করেন, তবে যদি কেবল সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এর প্রয়োগ হতে থাকে, তা হলে ফল ভাল না-ও হতে পারে।

বায়ো-রিমডেলিং থেরাপি

ত্বকের কাটাছেঁড়া বা কোনওরকম অস্ত্রোপচার নয়, সুচ ফুটিয়ে ত্বকের নানা জায়গায় সামান্য পরিমাণে হায়ালুরনিক অ্যাসিড ঢুকিয়ে দেয়া হয়। বিশেষ করে ত্বকের যে জায়গায় বলিরেখা পড়েছে, দাগছোপ রয়েছে অথবা কোনও ক্ষত তৈরি হয়েছে, সেখানকার কোষ পুনর্গঠনের জন্যই এই থেরাপি করা হয়। তবে ত্বকে বেশিমাত্রায় অ্যাসিড ঢুকলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে ত্বকে জ্বালাভাব বাড়বে, প্রদাহ বাড়বে। ত্বক স্পর্শকাতর হয়ে যাবে। যাঁদের কোনও শারীরিক সমস্যা আগে থেকেই আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভুলেও এই থেরাপি করাতে যাবেন না।

স্কিন বুস্টিং

মাইক্রোইঞ্জেকশনের সাহায্যে ত্বকে কিছু উপাদান প্রবেশ করিয়ে ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনার পদ্ধতিকে স্কিন বুস্টিং বলা চলে। সচরাচর হায়ালুরনিক অ্যাসিড প্রবেশ করিয়ে এই চিকিৎসা করা হয়। মোটামুটি দু’সপ্তাহের মধ্যে ফল দেখতে পাওয়া যায়। ত্বক মসৃণ দেখায়। তবে স্কিন বুস্টিং বেশি করালে ভালর চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে। যাঁদের অ্যালার্জির ধাত আছে, ত্বক স্পর্শকাতর বা কোনও চর্মরোগ আছে, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি নিরাপদ নয়।

সৌন্দর্যবর্ধক এই থেরাপিগুলি করালে সাময়িক ভাবে ত্বকের রং উজ্জ্বল হয়, বলিরেখা দূর হয় ঠিকই, তবে কোনওটিই দীর্ঘমেয়াদি নয়। ত্বকের উজ্জ্বল রং একইরকম রাখতে, বারে বারেই তা করানোর প্রয়োজন হয়। আর বারংবার এই সব থেরাপি করালে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও মারাত্মক হতে পারে। কৌশিকবাবুর কথায়, সৌন্দর্য থেরাপির ক্ষতিকর দিকগুলি হল ত্বকের অ্যালার্জি, ত্বক লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, অত্যধিক সংবেদনশীল হয়ে পড়া, লেজ়ারের পরে পোড়া দাগ পড়া ইত্যাদি। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ত্বকে নানা প্রকার অ্যাসিড বার বার প্রবেশ করালে শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে নানা ধরনের সংক্রামক রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসা আগেও হত

ফরসা রং ধরে রাখার থেরাপি নিয়ে এখন যতই মাতামাতি হোক না কেন, আগেও কিন্ত তা হত। প্রাচীন মিশর, রোম, গ্রিসে তা ছিল একচেটিয়া। মিশরের রানি ক্লিয়োপেট্রা থেকে শুরু করে গ্রিস ও রোমের সুন্দরীরা ত্বকের ফরসা রং ধরে রাখতে সিসা, পারদ ও ভিনিগারের প্রলেপ ব্যবহার করতেন। ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের আমলে মার্বেলের মতো ধবধবে সাদা ত্বকের কদর ছিল। শোনা যায়, রানি সিসা ও ভিনিগার মেশানো প্রসাধনী ব্যবহার করতেন, যাকে বলা হত ‘ভেনিসিয়াস সেরুস’। চিকেন পক্সের দাগ ঢাকতে এমন প্রসাধনী ব্যবহার করতে তিনি। তার দেখাদেখি তা ব্যবহার করতেন রাজপরিবারের মহিলারা ও সাধারণ মানুষজনও। তবে পরবর্তী কালে এমন প্রসাধনী থেকেই বিষক্রিয়ার শিকার হতে হয় অনেককে।

১৯ শতকের শেষ এবং ২০ শতকের শুরুতে আর্সেনিক ট্যাবলেট বিক্রি হত ফরসা হওয়ার জন্য। পরবর্তী কালে মানুষজন বুঝতে পারেন, যে এই সব ধাতুর প্রভাব শরীরে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। বিংশ শতকের শেষ দুই দশকে এসে হাইড্রোকুইনন, রেটিনয়েড এবং লেজ়ার প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটে, যা পরবর্তী কালে গ্লুটাথিয়োন ও কেমিক্যাল পিলিংয়ের মতো থেরাপির পথ প্রশস্ত করে।

খ্যাতনামা অনেক তারকাই ত্বকের রং বদলে দেয়ার থেরাপি করিয়েছেন নানা সময়ে। যাদের মধ্যে পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের নাম প্রথমেই আসবে। তবে তিনি শ্বেতি বা ভিটিলিগোর মতো অটোইমিউন ডিজ়অর্ডারে আক্রান্ত ছিলেন। শ্বেতির সাদা দাগছোপ যখন তার সারা শরীর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন চিকিৎসক আর্নল্ড ক্লাইনের পরামর্শে তিনি ডিপিগমেন্টেশন থেরাপি করিয়েছিলেন। এতে তার ত্বকের রং ধবধবে ফরসা হয়ে গিয়েছিল। বলিউডের অনেক তারকাও স্কিন হোয়াইটেনিং থেরাপি করিয়েছেন বলে শোনা যায়। তবে চিকিৎসেরা বলছেন, গাত্রবর্ণ যেমনই হোক, তা সৌন্দর্যের মাপকাঠি হতে পারে না। তাই অযথা প্রকৃতির উল্টো নিয়মে গিয়ে ত্বকের চরিত্র বদলে ফেলার চেষ্টা না করাই ভাল। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতির পাল্লাই ভারী।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *