চট্টগ্রাম :যৌতুক ও মাদককে সামাজিক ব্যাধি উল্লেখ করে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, সমাজ পরিবর্তন করতে হলে সবার আগে নিজের ইচ্ছা, মানসিকতা ও চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন আনতে হবে। ব্যক্তিবিশেষ বা অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; যৌতুক ও মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে নিজের ঘর ও পরিবার থেকেই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে এলজিইডি ভবন মিলনায়তনে আঞ্জুমানে রজরিয়া ট্রাস্ট আয়োজিত ‘যৌতুক ও মাদক মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা একদিকে ধর্ম ও মানবিকতার কথা বলি, আবার অন্যদিকে বিয়েতে যৌতুক ও অতিরিক্ত বরযাত্রীর অজুহাতে কন্যাপক্ষকে চাপে ফেলি-যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যৌতুকের কারণে প্রতিনিয়ত আমাদের আশেপাশেই নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আমরা নিজের মেয়ের সাথে যে সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ করি, ঠিক একই আচরণ যদি ছেলের স্ত্রীর সাথেও করি, তবে সমাজ থেকে যৌতুকের নিপীড়ন চিরতরে দূর হবে।যুবসমাজ ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা প্রসঙ্গে ভূমি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, মাদক সমাজকে পুরোপুরি বিশৃঙ্খল ও ধংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিগত ১৭ বছরে আমাদের নীতি, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের যে চরম অবক্ষয় হয়েছে, তা থেকে বের হতে হলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। পাড়া, মহল্লা ও গ্রামে অপরাধীদের পরিচয় গোপন থাকে না। নিজের সন্তানও যদি মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে, তাকেও আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম), বেতার-টেলিভিশন ও পথনাটকের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়াতে হবে। একইসাথে আলেম-ওলামাগণ ওয়াজ মাহফিল ও শুক্রবারের খুতবায় যৌতুক ও মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে পারেন। সমাজকে কলুষমুক্ত করতে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে সকলকে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনায় বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। -ত.বি. Post Views: 2 Post navigation কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না: আইসিটি মন্ত্রী বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক,দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা