দিনাজপুর প্রতিনিধি :
স্বামী-স্ত্রী, শ্বশুর ও বন্ধু মিলে চেক জালিয়াতি, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন উপায়ে ব্যবসায়ীদের ১৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫৫ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এই অভিযোগ করেন দিনাজপুরের পুলহাট এলাকার বিসমিল্লাহ অটো প্রিন্ট হাউজের সত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম। এ সময় তার সাথে তানভীর রহমান রাজিব ও রিপন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পুলহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাসরত মৃত রফিকের ছেলে আশিক (৩২) দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতো। আমার অসুস্থ্যতার কারণে ও দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাধে সে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ দেখাশোনা করাসহ প্রিন্টের বস্তা বিভিন্ন কোম্পানিকে সাপ্লাই দিতো। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১২ মে পর্যন্ত সে বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় একটি কোম্পানির বস্তা নিয়ে মুহিতকাজী মাস্টারের কাছে ৭ লাখ ৮ হাজার ৫১৮ টাকায় বিক্রি করে। পরে ওই কোম্পানির ৭ লাখ টাকার একটি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরী করে নকল চেকের ফটোকপি আমাকে প্রদান করে। এছাড়াও আমার প্রতিষ্ঠানে থাকাকালে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩৭ টাকা গ্রহণ করে। এ নিয়ে মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫৫ টাকা আমাকে প্রদান করেনি। আমি টাকা চাইলে আজ নয় কাল, দিবো দিচ্ছি বলে আমাকে ঘুরাইতে থাকে। পরে বিষয়টি তার স্ত্রী মোছা: তিথি এবং তার পিতা শাহজাহান আলীকে জানালে তারা টাকা পরিশোধের দায়িত্ব গ্রহণ করে। সর্বশেষ গত ১২ মে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তার কাছে টাকা চাইলে টাকা পরিশোধ করতে অস্বীকার করে পালিয়ে যায়। তারা অন্যায় লাভের আশায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওই টাকা আমাকে প্রদান না করে বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রতারণা করে আত্মসাত করেছে। এই ঘটনার সাথে ওই ৩ জন ছাড়াও কসবা এলাকার মাসুদ রানা বাবু, বোচাগঞ্জ এলাকার মুহিতকাজী মাস্টার জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই সংবাদ সম্মেলনে তানভীর রহমান রাজিব অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তিরা গত ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট তার কাছ থেকে ব্যবসায়ীক সুসম্পর্ক থাকার কারণে ৭ লাখ টাকা ধার নেয়। ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৭ লাখ টাকা ফেরত দিবে বলে স্ট্যাম্পের অঙ্গীকার নামাও লিখে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু তারা ওই টাকা দিবো দিচ্ছি বলে ঘুরাচ্ছে। সর্বশেষ গত ১১ জুলাই বিকেলে টাকা পরিশোধ না করে মিথ্যা মামলায় জেলের ভাত খাওয়ানোর হুমকি দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতির ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
তারা বলেন, বর্তমানে স্বামী, স্ত্রী ও শ্বশুর এলাকায় নেই। তারা টাকা আত্মসাত করে গা ঢাকা দিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ গ্রহণের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *