যুব কংগ্রেসের নেত্রী থাকার সময় থেকে হাজরা মোড়ে ১৪ অগস্ট মধ্যরাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে বেহালার ম্যান্টনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অফিসের সামনে মমতার কর্মসূচি ছিল বাঁধা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর প্রথম স্বাধীনতা দিবসে কোথাও দেখা গেল না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিরোধী নেত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী— গত চার দশক মমতা প্রাক্ স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনকে কার্যত রুটিনে পরিণত করে ফেলেছিলেন। ১৪ অগস্ট রাতে ‘মিড নাইট ফ্রিডম’ পালন করতেন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অংশ নিতেন রেড রোডের কুচকাওয়াজে। এ বার দ্বিতীয়টির কোনও সুযোগ ছিল না। কিন্তু রাজনৈতিক ভাবেও স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে সশরীরে থাকতে দেখা গেল না তাকে। তবে শনিবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি পোস্ট করেছিলেন মমতা।আনন্দবাজার ডট কম

যুব কংগ্রেসের নেত্রী থাকার সময় থেকে হাজরা মোড়ে ১৪ অগস্ট মধ্যরাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে বেহালার ম্যান্টনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অফিসের সামনে মমতার কর্মসূচি ছিল বাঁধা। ২০২২ সালের ২৩ জুলাই সকালে মমতা-সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী পার্থকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করেছিল ইডি। তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনও সেই বেহালাতেই করেছিলেন মমতা। যা ছিল পার্থের বিধানসভা বেহালা পশ্চিমের অন্তর্গত। আরজি কর পর্বেও স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করেছিলেন তিনি। এমনকি, কোভিডের সময়েও জমায়েত ছাড়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

কিন্তু কেন এ বার তাকে দেখা গেল না? সঠিক ব্যাখ্যা নেই দলের কারও কাছেই। প্রবীণ নেতা তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘উনি কেন কোনও কর্মসূচিতে যোগ দেননি সেটা জানা নেই।’’ তবে শোভনদেব নিজে বেশ কয়েকটি জায়গায় স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন।

তপসিয়ায় পুরনো তৃণমূল ভবনের সামনে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের দোলা সেন, কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা। মমতার বাড়ির উঠোনে জাতীয় পতাকা তোলেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। কোনও কর্মসূচিতেই মমতাকে দেখা যায়নি। অথচ, ভোটের ফলপ্রকাশের পাঁচ দিনের মাথায় গত ৯ মে বাড়ির উঠোনেই রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতার স্বাধীনতা দিবসে না-থাকা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন ঋতব্রতপন্থি তৃণমূলের অন্যতম নেতা তথা বিধানসভার তৃণমূল পরিষদীয়দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক বলেন, ‘‘স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন একটা উৎসবের মতো। এটা অন্তর থেকে আসে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেন কোথাও রইলেন না, সেটা তিনিই ভাল বলতে পারবেন।’’

মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতার স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন শুরু হত ১৪ অগস্ট সন্ধ্যা থেকে। ১৫ অগস্ট সকালে রেড রোডের কর্মসূচির পর বিকেলে রাজভবনে যেতেন তিনি। ১৫ অগস্টে তার দু’বেলার কর্মসূচিই থাকত প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে। যেমন এ বার রেড রোডে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাড়ায় তৃণমূলের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের যে ধুম দেখা যেত, এ বার তা-ও নেই। বরং বিজেপি বহু জায়গায় পতাকা উত্তোলন করেছে। সিপিএম রাজ্য দফতরে জাতীয় পতাকা তুলেছেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিমরাও। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের ফ্রেমের বাইরে রইলেন মমতা। ক্ষমতাচ্যুত মমতা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *