রবিবার সাতসকালে রামপুরহাটে বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে রামপুরহাটের পাঁচ বারের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পাওয়া যায় একটি চিঠিও। যেটি সুইসাইড নোট বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ডেস্ক :রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার তিনি বলেন, পুলিশ-প্রশাসনের তরফে কোনও নোটিস দেয়া হয়নি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার দাবি, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ককে বিজেপির কেউ হুমকি দেননি। বীরভূমের প্রবীণ রাজনীতিকের রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে ‘তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্তদের’ কেউ রয়েছেন কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ— রবিবার এমনটাই জানালেন শুভেন্দু। বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিসকে ‘সজ্জন রাজনীতিবিদ-শিক্ষাবিদ’ বলে বর্ণনা করে তার অকস্মাৎ মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।আনন্দবাজার ডট কম রবিবার সাতসকালে রামপুরহাটে বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে রামপুরহাটের পাঁচ বারের প্রাক্তন বিধায়কের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পাওয়া যায় একটি চিঠিও। যেটি সুইসাইড নোট বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ সেই চিঠিতে লেখা হয়েছে, পরিবারের কেউ যেন রাজনীতির আঙিনায় না আসেন। আর নিজে দীর্ঘ রাজনীতিক জীবনে কোনও দুর্নীতিতে যুক্ত হননি। চিঠির শেষে লেখা, ‘‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’’ এই মৃত্যুর নেপথ্যে বিজেপির অপপ্রচারকে দায়ী করেছেন কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলছেন, দোষ প্রমাণ হওয়ার আগেই কাউকে অপবাদ দেয়া, কলঙ্কিত করা এবং সামাজিক ভাবে অপদস্থ করার ‘প্রবণতা’ চালু করেছে বিজেপি। আশিসের মৃত্যুর ঘটনা তারই পরিণাম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ওই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে আশিসের অকস্মাৎ মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘খুবই দুঃখের ঘটনা। খবরটা শোনার পর মর্মাহত হয়েছি। আমরা যারা তার (আশিস) সঙ্গে কাজ করেছি, ২০০৬ সালে (তৃণমূলের) যে গুটিকয়েক এমএলএ (বিধায়ক) ছিলেন, তার মধ্যে উনি একজন। আমিও ছিলাম। যা হয়েছে বেদনার। পুলিশ-জেলাশাসককে যা বলার বলেছি।’’ তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী সন্দেহের সুরে জানিয়েছেন, তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত কারও ফোন বা মেসেজ পেয়ে থাকতে পারেন আশিস। ব্ল্যাকমেল করা হতে পারে। সেগুলো পুলিশ দেখবে। কারণ, বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব রচনা করেছিলেন আশিস। শুভেন্দুর দাবি, এখন তাকে ফাঁসানোর জন্য কোনও হুমকি দেয়া হয়ে থাকতে পারে। এ জন্য আশিসের মোবাইল পরীক্ষা করবে পুলিশ। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আমি পরিবারের পাশে থাকার কথা বলেছি। রাজ্যের ডিজিপি এবং বীরভূম জেলার এসপি-কে মোবাইলগুলো দিতে বলেছি। দুর্নীতিগ্রস্তদের কেউ হয়তো বলেছে, ‘আপনার নাম বলে দেব আমরা’। মমতার তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের সঙ্গে তো ওর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। মমতাপন্থি তৃণমূল থেকে সরে এসেছিলেন। স্বাভাবিক ভাবে কেউ ব্ল্যাকমেল করেছেন কি না, দেখার বিষয়।’’ পাশাপাশি সুইসাইড নোট বলা হচ্ছে যে চিঠিটিকে, সেটা আশিসেরই লেখা কি না, পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওই চিঠি ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর অপমৃত্যু নিয়ে শুভেন্দু এ-ও বলেন, ‘‘এদের কেউ দুর্নীতিগ্রস্ত বলবে না। শিক্ষাবিদ, সজ্জন রাজনীতিবিদ উনি। তার অনুগামীদের অনেকের বিরুদ্ধে অবশ্য অভিযোগ রয়েছে। সেই সহযোগীদের সার্টিফিকেট দিতে পারব না। (রামপুরহাটে) বালি মাফিয়ার দৌরাত্ম্য আছে। ভাদু, আনারুল, বগটুইয়ের মতো ঘটনাও তো ওখানে ঘটেছে। তবে উনি সৎ মানুষ।’’ আশিসের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বোলপুরের বিধায়ক অসিত মালকে তিনি ভিডিয়ো কল করেছিলেন। সেখান থেকে আশিসের পরিবারের সকলের সঙ্গে কথা বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আমি জানতে চেয়েছিলাম, কেউ ওকে উত্ত্যক্ত করেছিল কি না। পরিবার থেকে এমন অভিযোগ মেলেনি। বরং বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী ধ্রুব সাহা পাঁচ বারের বিধায়ককে হারিয়ে তার বাড়ি গিয়ে প্রণাম করে এসেছেন। আশীর্বাদ চেয়েছেন। এই রাজনীতি তো গত ১৫ বছরের শাসনে দেখা যায়নি।’’ Post Views: 21 Post navigation রাশিয়া ও ইউক্রেনজুড়ে চলছে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা