এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বিশেষ প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগির রোগ প্রতিরোধে টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতনতামূলক র্যালি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ-এর নবপল্লব প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও প্রাণিপালনকারীদের টিকাদান বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে টিকা কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের অডিটরিয়ামে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির টিকাদান বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মতবিনিময় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশ-এর উপজেলা সিনিয়র প্রকল্প অফিসার নাজমুল হক রেজওয়ান। গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগির টিকাদান বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আবু হানিফ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশ-এর সিনিয়র লাইভলিহুড অফিসার মো. হুমায়ুন কবির, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর আফিয়া সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মতবিনিময় সভায় মোরেলগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন থেকে ৫০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। সভায় গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানের প্রয়োজনীয়তা, টিকা প্রদানের পদ্ধতি এবং খামারি ও প্রাণিপালনকারীদের সচেতন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা নিজ নিজ এলাকায় গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগির টিকা প্রদান করবেন। পাশাপাশি তারা স্থানীয় খামারি ও প্রাণিপালনকারীদের টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনপদে বহু পরিবার গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। রোগবালাইয়ের কারণে এসব প্রাণী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। সময়মতো টিকা প্রদান করা হলে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা ও খামারিদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব। তারা আরও বলেন, টিকাদান সম্পর্কে খামারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত প্রচারণা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে টিকার সময়সূচি, প্রয়োজনীয়তা ও সঠিক প্রয়োগ সম্পর্কে জানাতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এদিকে কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাইকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারণার মাধ্যমে গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগির মালিকদের নিয়মিত টিকা প্রদানে উৎসাহিত করা হয়। আয়োজকরা জানান, মোরেলগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫০ জন উদ্যোক্তা নিজ নিজ এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারি ও প্রাণিপালনকারীদের কাছে টিকাদান কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, কেয়ার বাংলাদেশের নবপল্লব প্রকল্পের এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগির রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। Post Views: 29 Post navigation দিনাজপুরে ইয়াসমিন হত্যা দিবসে মহিলা পরিষদেরমানববন্ধনে সব ধরনের নির্যাতন প্রতিরোধের আহ্বান দিনাজপুর জেলার গোয়েন্দা শাখা কর্তৃক কুখ্যাত ডলার প্রতারক রশিদুল (৫২) গ্রেফতার