দিনাজপুর প্রতিনিধি।।

দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোঃ আনোয়ার হোসেন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সাইবার শাখাসহ একটি চৌকস টিম দিনাজপুর জেলার রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে খানসামা থানা এলাকার কুখ্যাত ডলার প্রতারক রশিদুল (৫২) কে গ্রেফতার করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়,

গত ২২/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সকাল অনুমান ১১.৪৫ ঘটিকার সময় খানসামা থানাধীন ২নং ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া গ্রামস্থ চেয়ারম্যান পাড়ার জনৈক সাইফুল ইসলামের বসত বাড়ির ভিতর ডলার প্রতারণা করার সময় খানসামা থানা পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সাইবার শাখা ডলার প্রতারকচক্রকে গ্রেফতার করার জন্য তৎপর থাকেন। অদ্য ২৪/০৮/২০২৬ তারিখ রাত ০২.০০ ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপর সদর থানাধীন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস টিম কুখ্যাত ডলার প্রতারক রশিদুল (৫২)কে গ্রেফতার করেন। প্রাথমিকভাবে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে ডলার প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ডলার প্রতারণার বিষয়ে বিস্তারিত বলেন। তিনি জানান যে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষদের সাথে ডলার প্রতারকচক্রের সদস্যগণ আগে বন্ধুত্ব ও বিশ্বস্ততার সম্পর্ক স্থাপন করেন। এসময় এ চক্রের সদস্যরা নিজেদের দিনমজুর, রিক্সাচালক, অটোচালক, কারখানার শ্রমিক পরিচয় দেন। প্রতারকচক্র বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীদের জানান যে, তাদের কাছে কুড়িয়ে পাওয়া কিছু ডলার আছে কিছু কিভাবে, কার কাছে তা বিক্রি বা টাকায় পরিবর্তন করবে জানেন না। যদি ভুক্তভোগীরা বা অন্য কেউ ডলার কম দামে ক্রয় করে বা বিনিময়ে কিছু টাকা প্রদান করে তাহলে প্রতারকচক্রের সদস্যরা গরীব হিসেবে দুটো গরু ক্রয় করে, রিক্সা, অটো চার্জার ক্রয় করে বা হাল-কৃষি করে খেতে পারবেন। ভুক্তভোগীরা প্রতারকচক্রের ফাঁদে পড়ে তাদের কাছে ডলার ক্রয় করার জন্য রাজি হলে প্রতারকচক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীদের পূর্বনির্ধারিত স্থানে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রতারকচক্রের অন্য সদস্য ডিবি পুলিশ বা সিভিল পুলিশ হিসেবে ওৎপেতে থাকে। যখনই প্রতারকচক্র ও ভুক্তভোগী ডলার বিনিময় বা বেচাকেনা করে তখনই ভুয়া পুলিশ তাদের অবৈধ ডলার বেচাকেনার কারণে গ্রেফতার করে এবং সবকিছু হাতিয়ে নেয়। ভুয়া পুলিশ ভুক্তভোগীদের জেলে পাঠাবে বলে হুমকি দেয়। এসময় ভুক্তভোগীরা জেল-হাজতে না যাওয়ার জন্য চক্রকে অনুরোধ করে এবং এর বিনিময়ে আবার ভুক্তভোগীদের কাছে আরও টাকা হাতিয়ে নেয়। এসব চক্ররের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে এ বিষয়ে কাউকে না জানানোর জন্য সাবধান করে এবং কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আসামি জানান, উক্ত চক্রের সাথে ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী এবং দিনাজপুর জেলার লোকজন জড়িত আছে। প্রতারণার সময় চক্ররের সদস্যরা পাশ্ববর্তী থানার সীমান্তবর্তী এলাকা নির্ধারণ করে যাতে করে তারা এক থানা হতে দ্রুত অন্য থানা এলাকায় চলে যেতে পারে। আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদে, উক্ত ডলার প্রতারণাচক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

আসামি রশিদুলের বিরুদ্ধে দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার ডলার প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার টংগুয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র মোঃ রশিদুল (৫২)।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *