বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে ১৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে। তরুণদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, মেধা ও সুপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের নতুন কিছু শেখা, তৈরি করা, সংযোগ স্থাপন ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতেই ব্র্যান্ডটি এই উদ্যোগ নিয়েছে।
অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামকে মূলত এমন এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সাজানো হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, কমিউনিকেশন, লিডারশিপ ও কমিউনিটি-বিল্ডিং দক্ষতার বিকাশ ঘটবে। অপোর প্রতিনিধি হিসেবে এই অ্যাম্বাসেডররা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে সহপাঠী ও তরুণদের সাথে যুক্ত হবেন, আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি করবেন ও অপো লাইফস্টাইল অভিজ্ঞতায় অন্যদের উদ্বুদ্ধ করবেন।
এই উদ্যোগটি গতানুগতিক ব্র্যান্ড প্রচারণার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডররা উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি ক্রমবর্ধমান কমিউনিটির অংশ হয়ে উঠবেন, যেখানে নিজ নিজ চিন্তা, কার্যক্রম ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে তারা অপো ও নতুন প্রজন্মের তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অর্থবহ সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি, এই প্রোগ্রামটি শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন যাত্রার সূচনা করবে; যেখানে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি তারা ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শেখা, সমমনা তরুণদের সাথে নেটওয়ার্কিং, নিজস্ব সৃজনশীলতা চর্চা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে অপো বাংলাদেশের অথরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড্যামন ইয়াং বলেন, “অপো বিশ্বাস করে, তরুণদের মাঝে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও সুপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে। অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করার একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম। আমরা চাই, আমাদের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডররা কেবল ব্র্যান্ড প্রতিনিধি হিসেবে নয়; বরং ক্রিয়েটর, চেঞ্জমেকার ও ইউথ লিডার হিসেবে নিজেদের মেধা, প্রযুক্তি ও স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাজকে অনুপ্রাণিত করুক।”
উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতাকে প্রাধান্য দেওয়া বৈশ্বিক স্মার্ট ডিভাইস ব্র্যান্ড অপো বিশ্বাস করে, তাদের দায়িত্ব শুধু স্মার্টফোন বা স্মার্ট গ্যাজেট তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তরুণ সমাজ যেন প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করে নিজেদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি, স্মরণীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যে ব্র্যান্ডটি নিয়মিত নানা সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শেখা, যৌথ উদ্যোগ ও নিজস্ব দক্ষতার বিকাশে উপযোগী পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে ‘ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম’ অপোর সেই বৃহত্তর লক্ষ্যকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
নতুন নির্বাচিত হওয়া এই অ্যাম্বাসেডররা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা হলেন – আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) মো. রফিজুরজ্জামান রফি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসের (বিইউপি) মো. মারুফ আহমেদ সিনহা, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির (ইডব্লিউইউ) আবদুল্লাহ শরীফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মহিমা আমিন মৌ ও মো. আশরাফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামিয়া জান্নাত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশা রানী দাস, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) নুঝাত নাওয়ার ও চৌধুরী আসিফ আবদুল্লাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মুবাসশির তাহমিদ ভূঁইয়া, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হামিম আহমেদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. ইউসুফ আলী, ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) উম্মায়া হাবিবা সুজানা, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সাব্বির আহমেদ কাব্য এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আবু সাঈদ।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে অ্যাম্বাসেডরদের অপোর ব্র্যান্ড ফিলোসফি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল অপো ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি মোবাইল ফটোগ্রাফি সেশন, যা পরিচালনা করেন পাঠশালার ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রধান খন্দকার তানভীর মুরাদ। অনুষ্ঠানে অপো বাংলাদেশের অথরাইজড এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরের হেড অব মার্কেটিং মো. নাজিমুদ্দৌলা নিলয় উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামের মাধ্যমে অপো বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটির সাথে আরও শক্তিশালী ও সুনিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। অ্যাম্বাসেডররা নিজেদের সৃজনশীলতা, চিন্তা ও স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এই প্রোগ্রামে অবদান রাখার পাশাপাশি সহপাঠীদের নতুন কিছু আবিষ্কার ও তৈরি করতে এবং নিজেদের বিকশিত করতে উৎসাহিত করবেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে অপো এমন একটি কমিউনিটি গড়ে তুলতে চায়, যেখানে তরুণরা কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে নতুন কিছু তৈরির সক্রিয় অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে—যা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উভয় ক্ষেত্রে বিকশিত হতে সাহায্য করবে। ‘অপো ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম’ মূলত এ প্রজন্মের তরুণদের নতুন নতুন বিষয় জানা, তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরি, প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং ও ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতি অপোর অব্যাহত প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

  • প্রেস রিলিজ

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *