ক্রমবর্ধমান বর্জ্য সমস্যা পাবনা শহরের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এই সমস্যার সমাধানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পাবনার বাস্তবতা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বর্জ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন পৌরসভার পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

পাবনা শহরে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাবনা পৌরসভা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি এবং ব্র্যাকের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেছেন। পাবনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পাবনা শহরে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিজ নিজ অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এই তিনটি প্রতিষ্ঠান পৌরসভার বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। এই অংশীদারিত্বে পাবনা পৌরসভা প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও তদারকি দেবে। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় পিরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই উদ্যোগের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কারিগরি নেতৃত্ব দেবে ব্র্যাক।

সমঝোতা স্মারকে ব্র্যাকের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী এবং পাবনা পৌরসভার পক্ষে পৌর প্রশাসক মো. খায়রুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন। এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো: লিয়াকত আলী সমঝোতা স্মারকের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

এই উদ্যোগের আওতায় প্রাথমিকভাবে পাবনা শহরের কয়েকটি এলাকায় কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে রাখা ও সংগ্রহের ব্যবস্থা উন্নত করা, বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করা হবে। পৌরসভার বর্জ্য সংগ্রহকর্মীদের দক্ষতা ও কাজের নিরাপত্তা বাড়াতেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘পাবনা প্রায় ২০০ বছরের পুরানো একটা শহর এবং এই শহরকে উন্নত করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটা গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। শুধু সরকারি উদ্যোগের উপর নির্ভর না করে এ ক্ষেত্রে সবার সহযোহিতা একান্ত কাম্য।’

পাবনা পৌরসভার প্রশাসক মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘পাবনার মতো পৌরসভাগুলোর জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় সমস্যা। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগটি পৌরসভা, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান নিয়ে আসবে।’

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই যদি আমাদের মধ্যে নিজের শহরের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হয়, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সব জায়গা থেকেই ছোট ছোট উদ্যোগ শুরু করতে হবে। দরকার সবার সদিচ্ছা, আর আমাদের দায়িত্ব হবে তাদের পেছন থেকে সহযোগিতা করা।’

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু পাবনার নয়, মাঝারি আকারের সব পৌরসভার জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। এটি কেবল পরিবেশের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনস্বাস্থ্য, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মান এবং শেষ পর্যন্ত একটি শহর বসবাসের উপযোগী থাকবে কি না, সেই প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘ব্র্যাক কক্সবাজার, সাভার, সেন্ট মার্টিন ও বরিশাণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, এর কোনো তৈরি সমাধান নেই, স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী সমাধান খুঁজে নিতে হবে। পৌরসভাকে নেতৃত্ব দিতে হবে, আমরা সহযোগিতা করব। সবার অংশীদারিত্বেই টেকসই সমাধান সম্ভব।’

ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো: লিয়াকত আলী বলেন, পাবনা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এটি পাবনার সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

সমঝোতা স্মারকটি প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। কাজের অগ্রগতি ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পর্যায়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *